বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহারাষ্ট্রে করোনার ডেলটা প্লাস ধরন ছড়িয়ে পড়ার এ খবর জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে গতকাল রোববার বলা হয়েছে, করোনার ডেলটা প্লাস ধরন শনাক্ত হওয়া ৪৫ জনের মধ্যে ১৩ জনই জলগাঁও জেলার। এ ছাড়া রত্নগিরি জেলায় ১১ জনের শরীরে করোনার ডেলটা প্লাস ধরন শনাক্ত হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে শনাক্ত হয়েছে ছয়জনের। থানে ও পুনে জেলায় শনাক্ত হয়েছে যথাক্রমে ছয় ও পাঁচজন। বাকিরা রাজ্যের অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।
রোববার প্রকাশিত রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিনোম সিকোয়েন্সের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো করোনার ৮০ শতাংশ নমুনায় ডেলটা প্লাস ধরনের উপস্থিতি রয়েছে।

করোনার ডেলটা ধরন মহারাষ্ট্রকে বেশ ভুগিয়েছে। এর মধ্যেই এবার ডেলটা প্লাস ধরন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে রাজ্যটিতে। এ বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ বিদায় নিয়েছে। তবে করোনা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস রূপ বদলাচ্ছে। সবাইকে করোনাসংক্রান্ত বিধিবিধান পরিপালনে সচেতন থাকতে হবে।

মহারাষ্ট্রের পুনে, আহমেদনগর, সোলাপুর, সাংলি, সাতারা, রত্নগিরিসহ কয়েকটি জেলা ডেলটা প্লাসের ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।

ভারতের জনবহুল এই রাজ্যে রোববার ৫ হাজার ৫০৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় এই রাজ্যে এদিন ১৫১ জন মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে মহারাষ্ট্রে করোনা শনাক্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৮। আর মোট মারা গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৬ জন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম ভারত। মোট শনাক্তের বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দেশটি। করোনার হালনাগাদ তথ্য সরবরাহকারী ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে, রোববার দিবাগত রাত পর্যন্ত ভারতে ৩ কোটি ১৯ রাখ ৬৯ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মারা গেছেন মোট ৪ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যুর সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারত।

ভারতে করোনার ডেলটা ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের শেষের দিকে। এর কারণে চলতি বছরে এসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়েছে ভারত। দেশটি থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে ডেলটা ধরন। করোনার এই ধরন দ্রুত ছড়াতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ইতিমধ্যে করোনার ডেলটা ধরনকে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ডেলটা ধরন নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই এর রূপ বদলের খবর আসে। গত এপ্রিলে ভারতে করোনার ডেলটা প্লাস ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। মহারাষ্ট্র, কেরালা, মধ্যপ্রদেশসহ দেশটির কয়েকটি রাজ্যে ডেলটা প্লাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ভারতের বাইরে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে ডেলটা প্লাস ধরন ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলেছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন