default-image

ভারতে মহারাষ্ট্র বিধানসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদের নির্বাচনে পর্যুদস্ত হলো বিজেপি। মোট ছয়টি আসনের মধ্যে তারা জিতল মাত্র একটিতে। বাকি পাঁচটি আসনের দুটি পেয়েছে কংগ্রেস, দুটি এনসিপি, একটি জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। শিবসেনা কোনো আসনে জেতেনি। কিন্তু শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেসের জোট ‘মহা বিকাশ আগাড়ি’ বিজেপিকে পর্যুদস্ত করতে সফল। এই ছয় আসনের পাঁচটিই ছিল বিজেপির দখলে।

এই হতাশাজনক ফলের দিনেই বিজেপির পক্ষে উৎফুল্ল হওয়ার মতো খবর বয়ে এনেছে বৃহত্তর হায়দরাবাদ পুরসভা ভোট। ১৫০ আসনবিশিষ্ট এই পুরসভা দখলে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) এগিয়ে থাকলেও বিজেপি ভালো ফল করেছে।

আগের পুরসভায় বিজেপির দখলে ছিল মাত্র দুটি আসন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০০টি আসনের ফল ঘোষিত হয়েছে। টিআরএস পেয়েছে ৪২টি, এআইএমআইএম ৩৪, বিজেপি ২২ ও কংগ্রেস ২টি।

মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের এই আসনগুলো ছিল স্নাতক ও শিক্ষক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত। এই ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব ছিল সর্বাধিক। হঠাৎ তা কেন কমে গেল, তা নিয়ে বিজেপি নেতারা চিন্তিত। বিজেপি সবচেয়ে চিন্তিত নাগপুর ডিভিশনের স্নাতক আসন তাদের কাছ থেকে কংগ্রেস ছিনিয়ে নেওয়ায়। এই কেন্দ্র ৫০ বছর ধরে বিজেপির হাতছাড়া হয়নি। মহারাষ্ট্রের সাবেক বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বাবা এই আসনে দুবার জিতেছিলেন।

বিজেপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়িও দীর্ঘ ২৫ বছর এই কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। স্পষ্টতই, তিন দলের জোটের মোকাবিলা বিজেপি করে উঠতে পারেনি। এই ভোটের মধ্য দিয়ে এটাও স্পষ্ট হলো, মহারাষ্ট্রে ত্রিদলীয় জোটের বোঝাপড়া এখনো অটুট। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেছেন, তাঁদের জোট সরকার পুরো পাঁচ বছর সরকার চালাবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহত্তর হায়দরাবাদ পুরসভার ভোটে জিততে বিজেপি এবার চেষ্টার অন্ত রাখেনি। এই ভোটে জেতার মধ্য দিয়ে বিজেপি তেলেঙ্গানা দখলের স্বপ্ন দেখছিল। ভবিষ্যতে তেলেঙ্গানায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে এটি ছিল তাদের প্রথম শক্তিপরীক্ষা। শাসক টিআরএস ও শক্তিশালী এআইএমআইএমকে টক্কর দিতে বিজেপি প্রচারে নিয়ে এসেছিল সভাপতি জগৎ প্রতাপ নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের সঙ্গে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। বিজেপি গোটা প্রচারপর্বকে সংখ্যাগুরু বনাম সংখ্যালঘুর মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়ে গেছে। পুরোনো হায়দরাবাদে দাঁড়িয়ে আদিত্যনাথ জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে তাঁরা হায়দরাবাদের নাম বদলে ‘ভাগ্যনগর’ রাখবেন। হায়দরাবাদে ভাগ্যদেবীর মন্দির রয়েছে। বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রচারের আগে সেখানে পূজা দিতেও ভোলেননি।

শুক্রবার গণনা শুরু হয় পোস্টাল ব্যালট দিয়ে। তাতে বিজেপি এগিয়ে ছিল। বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাতে উৎফুল্ল হয়ে বিপুল জয়ের টুইট পর্যন্ত করে দেন। কিন্তু গণনা যত এগিয়েছে, দেখা গেছে বিজেপির শক্তি বাড়ালেও ক্ষমতা দখলের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়।

মন্তব্য করুন