অরুন্ধতী রায়

প্রথম আলো: মাস কয়েক আগে আপনি ৬০তম জন্মদিন পার করলেন। অতীতে যখন জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন, যেমন ১৯৯১ সালের কথা বলা যায়। তখন আপনার ৩০তম জন্মদিন ছিল। তখনো ভারতে হিন্দুত্ববাদী হাওয়া উঠেছিল। রথযাত্রা হয়েছিল, পরের বছরে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল। সেদিন আপনি কি কল্পনা করেছিলেন জীবদ্দশায় বর্তমানের এই ভারত দেখবেন?

অরুন্ধতী রায়: অধিকাংশ মানুষই আমার জন্মতারিখ ভুল করেন। আমার বয়স ৬২, ৬০ নয়। যাহোক, আপনার প্রশ্নের উত্তরে আসি। যে সময়ে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি তাঁর রথযাত্রা শুরু করেছিলেন, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়, সেই সময়ে আমি মধ্যপ্রদেশে একটি ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। মনে আছে, ভোপালে (মধ্যপ্রদেশের রাজধানী) একটা উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল।

এই যে সময়টার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, এটা নিয়ে দুই দশক ধরে লিখছি। লিখছি আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) সম্পর্কেও। নরেন্দ্র মোদি ওই ফ্যাসিবাদী ও হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনের সদস্য। সংগঠনটি ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন, যার হাজার হাজার শাখা এবং লাখ লাখ সদস্য রয়েছে। মনে রাখা দরকার, এ বছর (২০২২) গুজরাট গণহত্যার ২০তম বার্ষিকী। সেই দাঙ্গা মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বে ঘটেছিল, যা তাঁকে হিন্দু হৃদয় সম্রাটে পরিণত করে। মোদির ক্ষমতার শিখরে আরোহণের যাত্রা সমর্থন করেছিল ভারতের বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্ষমতায় আরোহণের সেই ইঞ্জিন ধারাবাহিক ধ্বংসযজ্ঞ, তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধ ও হত্যার ওপরে ভিত্তি করে এগিয়েছিল। এসবই লিখেছি এবং ভারতের তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও উদার ভাষ্যকারদের উপহাসের শিকার হয়েছি। এখন এঁরা কেঁদে ভাসাচ্ছেন।

প্রথম আলো: ভারতীয় সমাজে কোন পরিবর্তনের কারণে সব রাজনৈতিক দলকে কমবেশি হিন্দু আচার-আচরণে বিশ্বাস করতে হচ্ছে?

অরুন্ধতী রায়: আরএসএস প্রায় এক শতাব্দী কাটিয়েছে (সমাজের) ‘ফল্টলাইন’ (বিচ্যুতি) চিহ্নিত করতে। তারপর বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে
সেই বিচ্যুতির ওপরে বিদ্যুতের তার বিছিয়েছে, সমাজের জীর্ণ সংস্কারগুলোকে উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি নতুন সংস্কারের জন্ম দিয়েছে, সফলও হয়েছে। তবে ঘৃণার ধারাবাহিক প্রচারের একটা সময়সীমা আছে। ভারত এক বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশ, এদের সীমিত কল্পনার নাগালের বাইরে। তবে আমাদের এই সময়টা অতিক্রম করতে হবে, সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আগামী বছরগুলো আরও সমস্যা হবে। আরএসএস হয় ভারতকে শেষ করবে, নয়তো ভারত তাদের ধ্বংস করবে। মানুষ তাদের পরিকল্পনা এখন বুঝতে পারছে। অভিজাতরা নয়, দরিদ্ররা। যে দরিদ্র মানুষজনকে আরএসএসের জন্য বিরাট মূল্য দিতে হচ্ছে।

এটা উত্তর প্রদেশের রাস্তায়, গ্রামে, মানুষের কথাবার্তা শুনেই বোঝা যাচ্ছে। গুজরাটের মতোই উত্তর প্রদেশ হিন্দুত্বের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানে মানুষ রুখে দাঁড়াচ্ছে, রাজনৈতিক দলও দাঁড়াচ্ছে। একের পর এক রাজ্য বিজেপির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটা কেন্দ্রে। এ সমস্যার সমাধান রয়েছে একমাত্র ফেডারেলিজম বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে।

এএনআই ফাইল ছবি

প্রথম আলো: ভারত এ গোত্রের ঘৃণার আবহাওয়া দেখেনি। যেমন হিজাব–বিতর্কের কথা বলা যায়। একটা সম্প্রদায়কে গভীরভাবে অপছন্দ করার কারণ কী বলে মনে হয়?

অরুন্ধতী রায়: এমন নয় যে আমরা অতীতে ঘৃণার প্রকাশ দেখিনি। আন্তবর্ণ, আন্তসম্প্রদায়, আন্তধর্মীয় বিদ্বেষ প্রতিনিয়ত জঘন্যভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আমরা একটি গভীরভাবে সহিংস সমাজ। দিল্লিতে শিখবিরোধী গণহত্যা, ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ে মুসলমান নিধন আমরা দেখেছি। (ওডিশার) কন্ধমালে খ্রিষ্টানদের হত্যা করা হয়েছে। গির্জা ধ্বংস করা হয়েছে, পুড়িয়ে মারা হয়েছে মিশনারিদের। তবে এখন যেটা ভয়ের সেটা হলো, এসবের পেছনে একটা ঘোষিত আদর্শ তৈরি হয়েছে। সেই আদর্শে যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁরা প্রকাশ্য হত্যায়, পিটিয়ে মারায় গর্ববোধ করেন। স্কুলে হিজাব আপাতত পরতে নিষেধ করেছেন কর্ণাটকের হাইকোর্ট। এতে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। উত্তর প্রদেশে ধর্মীয় মেরুকরণের স্বার্থে বিষয়টি রাজ্যের বাইরে থেকে করা হচ্ছে। কারণ, রাজ্যের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা ‘নিরাপত্তা’র মতো বিষয় নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

অথচ ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক স্তরে গেরুয়া আলখাল্লা পরে হিন্দুধর্মীয় গুরুদের মতো নিজেদের মেলে ধরছেন। এর থেকেই অবস্থা অনুমেয়। মুসলমান মেয়েরা হিজাব খুলে ক্লাসে প্রবেশ করছে, এটা দেখা চরম দুঃখের ব্যাপার।

প্রথম আলো: আপনি কি মনে করেন এ অবস্থার জন্য অতীতে ক্ষমতায় থাকা দল ও সরকার, বিশেষ করে কংগ্রেস অনেকাংশে দায়ী?

অরুন্ধতী রায়: কংগ্রেস অনেক ভয়ংকর কাজ করেছে। অনেক ভালো কাজও করেছে। কিন্তু তাদের করা ভালো কাজগুলো পরবর্তী সময়ে নিজেরাই চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কংগ্রেস এমন একটা জমি তৈরি করেছে, যেখানে চাষ করতে বিজেপির সুবিধা হয়েছে। আরএসএসের ইতিহাসের চেহারা-চরিত্র এবং দেশজুড়ে তাদের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ একটা ঝড় উঠেছে। ‘শক্তিশালী কেন্দ্র’ আজ পরিণত হয়েছে উন্মত্ত কেন্দ্রে।

তবে শুধু আরএসএসের অস্বচ্ছ আদর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বুদ্ধিমত্তার অভাব ঢাকা দেওয়া যাবে না। আধুনিক সময়ের রাজনীতির মধ্যে মধ্যযুগীয় একটি জাতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা অসম্ভব। প্রধানমন্ত্রী নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। তিনি আর পোশাক পরেন না, শুধু নাটকীয় পরিচ্ছদ ব্যবহার করেন। একদিন তিনি একজন ধর্মীয় গুরু, পরের দিন একজন সৈনিক। তৃতীয় দিনে একজন শিখ, চতুর্থ দিনে হয়তো গোয়ার গানের দলের সদস্য। এটা নির্ভর করছে কোন রাজ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচারে গেছেন বা কার সঙ্গে দেখা করছেন তার ওপরে। এটা চিন্তার ব্যাপার।

প্রথম আলো: ভারতীয় রাজনীতিতে বর্তমানে কাশ্মীরকে কীভাবে দেখা হয়?

অরুন্ধতী রায়: আমি জানি না কাশ্মীরে কী হবে। মানুষের দমবন্ধ হয়ে আসছে। তাদের পাউডারের মতো গুঁড়া করে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও তারা উঠে দাঁড়াচ্ছে। কাশ্মীরের সংবাদমাধ্যমকে গলাটিপে মারা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করছে। বিরাট সংখ্যায় ভারতীয়রা ঢুকে কাশ্মীরকে প্লাবিত করে দেবে—এ উদ্দেশ্যে দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থিতাবস্থার পরিবর্তন করে ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে আজ ভারতের সেনাবাহিনীকে দুটি সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের বাহিনীর মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ওই উচ্চতায় লড়াইয়ের জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা বিশাল খরচসাপেক্ষ। অর্থনৈতিকভাবে সমস্যা বাড়বে আর বাহিনীর সদস্যের স্বাস্থ্যের অবনতি হবে। অনেকে মারা যাবেন, বেশির ভাগ প্রাকৃতিক কারণে।

প্রথম আলো: প্রতিষ্ঠানের ওপরে আপনার কি আর কোনো আস্থা আছে? যেমন বিচার বিভাগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা সংবাদমাধ্যম?

অরুন্ধতী রায়: মূলধারার গণমাধ্যমে বিশ্বাসশূন্য। ভারতের ইতিহাসের এ অধ্যায়ে, প্রচারমাধ্যম হত্যাকারীর ভূমিকা পালন করেছে (যা) ক্ষমার অযোগ্য। অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সাংঘাতিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। গোপন নির্বাচনী বন্ডের পাশাপাশি ‘ডিমনিটাইজেশন’ (নোট বাতিল) করা হলো। এটা একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দরিদ্র করেছে এবং অন্যদিকে অভাবনীয়ভাবে সমৃদ্ধ করেছে বিজেপিকে। এর ফল দেখতে পাচ্ছেন উত্তর প্রদেশে, যেখানে নির্বাচন চলছে।

বিজেপির কাছে কর্মীদের দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টাকা আছে, বুথে বসানোর লোক আছে, তথ্য সংগ্রহের পরিকাঠামো আছে, যা অন্যদের নেই। এটা একটি ফেরারি গাড়ির সঙ্গে একটি সাইকেলের প্রতিযোগিতা। তবে অন্যদিকে কী আছে? এখানে রূপকের আশ্রয় নিয়ে বলতে হয়, অন্যদিকে রয়েছে গ্রামের গর্তযুক্ত রাস্তা, যেখানে ওই ফেরারি গাড়িটির এগোনো বন্ধ করে দিতে পারে। জিতে যেতে পারে সাইকেল। তবে তা হবে সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একটা লড়াই।

বাকি রইল বিচারব্যবস্থা। গত কয়েক বছরে বিচারব্যবস্থা সরকারের অ্যাজেন্ডার সঙ্গে অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে এক হয়ে কাজ করেছে। ফলে এভাবে বলা যায়, এ অকেজো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আমারও একধরনের অকেজো বিশ্বাস রয়ে গেছে।

প্রথম আলো: ভারত কি এখনো একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশ, নাকি এটি ভেতর থেকে পরিবর্তিত হয়েছে? মানুষ কি বিশ্বাস করে এটি ধর্মনিরপেক্ষ?

অরুন্ধতী রায়: আমার মনে হয় ভারতের মানুষের বড় অংশ বিজেপির ব্যাখ্যায় প্রভাবিত, অভিভূত, মন্ত্রমুগ্ধ। বিষ আমাদের ধমনিতে প্রবেশ করেছে। তবে সমস্যা চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছে, নতুন অধ্যায় শুরু হবে। কিন্তু বিজেপি যত দুর্বল হবে, তত আগের চেয়ে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। এ দল ধারাবাহিক গণহত্যা, মিথ্যা সংকট সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবরের খামারের সাহায্যে ক্ষমতায় এসেছিল। একই প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষমতার বাইরেও যাবে।

তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো কোনো স্বল্পশক্তিসম্পন্ন একটি বা একাধিক দল যদি এদের হারায়, তবে বিজেপি হয়তো আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। তবে মানুষ এদের যথেষ্ট দেখে ফেলেছে। এ ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত যে ভারতে বিরাটসংখ্যক মানুষ এ ঘৃণার উৎসবে অংশ নিতে চায় না। তারা রুখে দাঁড়াবে, দাঁড়াচ্ছেও।

প্রথম আলো: কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলগুলো সম্পর্কে আপনি কতটা আশাবাদী?

অরুন্ধতী রায়: কংগ্রেস বিপর্যস্ত। এটা একটা গোল্ডফিশের সঙ্গে হাঙরের লড়াইয়ের মতো। তবে আঞ্চলিক দলগুলো দারুণ সাহস ও লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্রে। উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব একটা অবিশ্বাস্য লড়াই চালাচ্ছেন। সেই রাজ্যের মানুষও লড়ছে। আপনি যদি শহরের এবং গ্রামের মানুষের কথা শোনেন, কৃষকদের বিস্তীর্ণ সমাবেশ দেখেন, তাহলে কী বলতে চাইছি তা বুঝতে পারবেন। রাজ্যস্তরের নেতৃত্ব যদি কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে পারে, আর দলটি যদি তাদের দূরদৃষ্টি কাজে লাগিয়ে নম্রতার সঙ্গে একটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্মসূচি দাঁড় করাতে পারে, তাহলে বিজেপিকে পরাজিত করা সম্ভব। মোদির বিকল্প আর এক ব্যক্তি–মানুষের নেতা হয়ে ওঠাটা কাম্য নয়। ব্যক্তি নয়, একটা বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন।

প্রথম আলো: আপনি কি আর কিছু বলতে চান?

অরুন্ধতী রায়: হ্যাঁ। আমরা ঘৃণা উৎপাদনের একটা যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি, যেটা আমাদের ভারতের আসল সংকটকে বুঝতে দিচ্ছে না। পানীয় জলের সংকট, গভীর দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সংকট, ওষুধ বা চিকিৎসা না পাওয়া, অপুষ্টি এবং তার ফলে শিশুর শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ার সংকট থেকে লাখ লাখ কৃষকের আত্মহত্যা, কর্মহীনতা বৃদ্ধি—সংকটের যেন শেষ নেই। ভারত আজ বিশ্বের সবচেয়ে অসম সমাজের মধ্যে একটি। আজও আমাদের শহর এবং গ্রামে মানুষ যে অবস্থায় থাকে, তা দেখে প্রত্যেকের লজ্জিত হওয়া উচিত।

প্রথম আলো: এই সময়ে, কোনো বড় লেখা বা বইয়ের কথা কি আপনি ভাবছেন?

অরুন্ধতী রায়: সামনে অনেক ঘোরাঘুরি রয়েছে, কোভিডের কারণে যা বাতিল করতে হয়েছিল। নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। লেখা খুব একটা হচ্ছে না।