default-image

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামের পুরোনো ১৩টি ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। গতকাল বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এ ধরনের ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করাও গুরুতর অপরাধ।

২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একটি রসায়ন শিল্প অঞ্চল গড়ার জন্য তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার নন্দীগ্রাম ও পাশের খেজুরির ২৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই বিরুদ্ধে সেদিন এই রাজ্যের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাশাপাশি হুগলির সিঙ্গুরেও টাটাকে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য লিজ দেওয়া ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেন।

বিজ্ঞাপন

২০০৭ সালের ১৪ মার্চ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে সেদিন নন্দীগ্রামে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া এই আন্দোলনকে ঘিরে সে সময় নন্দীগ্রামের পুলিশ তৃণমূল নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা করে। এখনো বিভিন্ন আদালতে সেসব মামলা চলছে।

এদিকে এই রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন সমাগত। এই নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনের প্রার্থী হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সেদিনকার তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সেই ১৩টি মামলা এবার প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় দুটি জনস্বার্থ মামলা।

গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবি রাধাকৃষ্ণণের আদালতে মামলা দুটির শুনানি হয়। শুনানিকালে কঠোর মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করাও জঘন্য অপরাধ। এরপরও এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আগামীকাল শুক্রবার।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন