বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের আসন ছেড়ে লড়েছিলেন নন্দীগ্রাম আসনে। লড়েছিলেন তাঁরই মন্ত্রিসভার এককালের সদস্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা ১ হাজার ৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এরপর অবশ্য ভারতীয় সংবিধান মেনে মমতাকে অস্থায়ীভাবে বসানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। তবে নিয়ম হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছয় মাস মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারবেন। আর ওই ছয় মাসের মধ্যে তাঁকে এই রাজ্যের যেকোনো একটি বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হয়ে আসতে হবে।
এই লক্ষ্যে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মমতাকে।

ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচার। গতকাল সেখানেই তৃণমূল আয়োজিত কর্মিসভায় যোগ দেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতার চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে আয়োজিত এই কর্মিসভায় যোগ দিয়ে মমতা বলেন, ‘এবার অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হোক। আমি তো অনেক দিন এই পদে থেকে কাজ করেছি।’ মমতার এই দাবি মেনে নেননি তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা। তাই তাঁদের অনুরোধে তাঁকে এই পদে বসতে হয়েছে।
মমতা বলেন, ‘নন্দীগ্রাম আসনে ব্যাপকভাবে ভোট কারচুপি হয়েছে। অনেককে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলকে হারানোর জন্য অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমাকে জোর করে হারানোর কে পরিকল্পনা করেছে, সেটাও আমি জানি। তাই আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। আর সেই ষড়যন্ত্রের কারণে আজকে আবার নতুন করে আমাকে উপনির্বাচনে লড়তে হচ্ছে।’

মমতা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের এই নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আমি আমার দলের নেতাদের বলেছিলাম, এবার ছেড়ে দিন আমাকে, কী দরকার আর। আমিই সবটা করে দেব। নেতারা বললেন, তা হবে না। আমাকে চেয়ারম্যান ও মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলাতে হবে।’

মমতা হেরে গেলেও বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২১৩টিতে জিতেছে তারা। বিজেপি জিতেছে ৭৭টি আসন। এখন অবশ্য দলত্যাগের কারণে বিজেপির আসনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭২।
এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে মমতার ভবানীপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তাঁরই দলের প্রবীণ বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে এই আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ওই আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।

ভবানীপুরের আসন ছেড়ে দেওয়ায় শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মমতা। গতকাল তিনি বলেন, ‘শোভন দেব তাঁর আসনটি আমার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁকে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি ওই পদেই থাকবেন। উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দা বিধানসভার শূন্য আসনে মনোনয়ন দিয়ে তাঁকে জিতিয়ে আনা হবে।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন