default-image

প্রমত্তা গঙ্গায় কিছু সময় পরপরই ঝাঁপ দিচ্ছে কম বয়সী কিছু ছেলে। হাতে উঠে আসছে ধাতব মুদ্রা। কখনো কখনো ভাগ্য ভালো থাকলে হাতে আসে সোনা-রুপার তৈরি অলংকারও। আর এমন সৌভাগ্যের খোঁজেই দিনের পর দিন গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে যায় কম বয়সী শিশু থেকে সদ্য তরুণদের একটি দল।  

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে গঙ্গা একটি পবিত্র নদী। ভারতের হরিদ্বারে তীর্থ পরিদর্শনে আসেন অসংখ্য মানুষ। সেখানে গঙ্গার পানিতে ডুব দিয়ে নিজেদের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে চান হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা বিশ্বাস করেন, গঙ্গার পানিতে ডুব দিলে নিজেদের আত্মা শুদ্ধ হবে, পাপ ক্ষয়ে যাবে। আর এ সময় গঙ্গার পানিতে ধাতব মুদ্রাসহ নানা ধরনের অলংকারও ছুড়ে দেন তীর্থযাত্রীরা। পানিতে ছুড়ে ফেলা সেসব মুদ্রা ও অলংকার পেতেই গঙ্গায় ঝাঁপ দেয় স্থানীয় লোকজন।

রাহুল সিং এমনই একজন। বয়স তার ১৩ বছর। হরিদ্বারে গঙ্গা নদী থেকে মুদ্রা তোলার জন্য তার মতো কয়েক ডজন ছেলে আছে। তাদের মূল কাজ প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে মুদ্রা খোঁজার কাজ করা। রাহুল যেমন একটি লম্বা দড়িতে চুম্বক বেঁধে তা ডুবিয়ে দিচ্ছিল গঙ্গার পানিতে, নিচে কোনো ধাতব মুদ্রা থাকলে তা উঠে আসছিল তাতে।        

বিজ্ঞাপন
default-image

রাহুল বলছিল, ‘এই কাজ করতে বেশ কষ্ট হয়, অনেক পরিশ্রমও হয়। তবে আমি এ কাজ করতে ভালোবাসি।’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই কথাগুলো বলার সময় সে পানির নিচ থেকে পাওয়া মোট ৩০ রুপির মুদ্রা দেখায়।

গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে এভাবে যে কখনো কখনো সৌভাগ্যের দেখা মেলে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় রাজা যাদবের কথায়। তিনি জানালেন, আট বছর বয়স থেকে এ কাজে জড়িত। ছয় বছর আগে একদিন গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে সোনার তৈরি একটি নেকলেস পেয়েছিলেন তিনি। তখন এর দাম উঠেছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০ রুপি। এখন ২২ বছরের তরুণ রাজা এ-ও জানালেন, গঙ্গায় ধাতব মুদ্রা ও অলংকার খোঁজার কাজে মোট ১৫ জনের দল তৈরি করেছেন তিনি।

default-image

অবশ্য করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এই কাজেও মন্দা দেখা দেয়। মহামারির কারণে তীর্থস্থানে ধর্মপ্রাণ মানুষদের ভিড় কমে গিয়েছিল। এতে কমে যায় নদীতে ছুড়ে ফেলা মুদ্রার পরিমাণও। ফলে, দিন চালাতে সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে রাজা যাদবদের।

করোনা মহামারির প্রকোপ কিছুটা কমায় এবং করোনার টিকার প্রয়োগ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রাজা যাদব মনে করেন, গঙ্গাদেবীই তাঁদের দেখেশুনে রাখবেন। তিনি বলেন, ‘গঙ্গাকে আমরা মা হিসেবে দেখি এবং তিনি কখনোই তাঁর সন্তানদের ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে দেবেন না। তীর্থযাত্রীরা ফিরে এসেছেন এবং হাসিমুখে আমরা আবার গঙ্গায় ঝাঁপ দিচ্ছি।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন