default-image

মুম্বাইয়ে শত বছরের পুরোনো একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের ভেতরে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে বারোটার দিকে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের জনবহুল এলাকা ডংরির উপকণ্ঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনের ভেতর থেকে উদ্ধারকর্মীরা এখনো পর্যন্ত ৮ জনকে উদ্ধার করেছেন। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) তিনটি বড় দল উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। তবে ওই এলাকার গলিগুলো সরু হওয়ায় এবং গত সপ্তাহেই প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যা হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে দশটি অ্যাম্বুলেন্স ও পাঁচটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে গলিগুলো সরু হওয়ার কারণে সেগুলো গলির ভেতরে ঢুকতে পারছে না। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক কিশোর এনডিটিভিকে জানায়, ‘হুট করে আমরা বিকট শব্দ শুনতে পাই। সবাই চিৎকার করছিল, ভবন ধসে পড়ছে, ভবন ধসে পড়ছে! মনে হচ্ছিল যেন বড় কোনো ভূমিকম্প হচ্ছে।’ আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি ভেতরে মৃতদেহ দেখতে পেয়েছি। অন্তত সাত থেকে আটটি পরিবার ভেতরে আটকা পড়ে ছিল।’

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ‘লেভেল টু’ পর্যায়ের দুর্ঘটনা। ভবন ধসের ক্ষেত্রে ‘লেভেল ওয়ান’ পর্যায়ের দুর্ঘটনাকে সর্বোচ্চ মারাত্মক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনাবিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটি এক শ বছরের পুরোনো ছিল। এলাকাটিতে সংস্কার কাজ শুরু করতে আগেই অনুমতি দিয়েছিলাম আমরা। তদন্তের পর জানা যাবে সংস্কার কাজ শুরুতে দেরি হয়েছিল কি না। এই মুহূর্তে ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারকাজের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।’

ডংরি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরোনো বাড়িগুলো সংস্কার করতে অনেক দিন ধরেই গড়িমসি করছিল স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ। একজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার আবেদন করেছিলাম আমি, কিন্তু মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন দেরি করছিল। আমরা তাদের অনুমতির জন্য আর অপেক্ষা করতে চাই না। নিজেদের অর্থায়নেই সংস্কার শুরু করব আমরা।’

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম জনবসতিপূর্ণ শহর মুম্বাইয়ে ভবন ধস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। এর আগে গত মে মাসে বৃহত্তর মুম্বাইয়ের পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের ৪৯৯টি ভবনকে বিপজ্জনক বলে ঘোষণা দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন