তুলনামূলক যে হিসাব এনএফএইচএস-৫ প্রতিবেদনে দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রজননের হার সবচেয়ে কম বৌদ্ধ নারীদের—মাত্র ১ দশমিক ৩৯। জৈনদের ক্ষেত্রে তা ১ দশমিক ৬০, শিখদের ১ দশমিক ৬১ এবং খ্রিষ্টানদের ১ দশমিক ৮৮।

গবেষকেরা বলছেন, নারীশিক্ষার প্রসার যত ঘটছে, সচেতনতা তত বাড়ছে। ফলে প্রজননের হারও কমে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুসলমান সমাজে দুটি বিষয় ঘটছে। মেয়েরা অনেক বেশি স্কুলে যাচ্ছে এবং সমাজে গর্ভনিরোধকের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এই দুই কারণে গত এক দশকে মুসলমান নারীদের মধ্যে সন্তান নেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

২০১৫-১৬ সালে এনএফএইচ এস-৪-এর প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, মুসলমান সমাজে ৩২ শতাংশ নারী স্কুলমুখী হন না। হিন্দু নারীদের মধ্যে স্কুলে না যাওয়ার হার ছিল ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে মুসলমান নারীদের স্কুলে না যাওয়ার হার কমে হয়েছে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ। তুলনায় হিন্দু নারীদের হার কমে হয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ; অর্থাৎ মুসলমান নারীরা হিন্দুদের তুলনায় বেশি স্কুলে যাচ্ছেন।

default-image

শিক্ষার প্রসারের ক্ষেত্রে আবার শহর ও গ্রামের চিত্র ভিন্ন। শহরের নারীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রবণতা গ্রামের নারীদের চেয়ে বেশি। সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্রেও তা প্রতিফলিত হয়। শহরে প্রজননের হার গ্রামের তুলনায় কম। আর্থিক সচ্ছলতাও অন্য একটি কারণ। অপেক্ষাকৃত ধনী পরিবারের নারীদের সন্তান দরিদ্রদের তুলনায় কম।
নারীশিক্ষা বিস্তারের ওপর বিশেষজ্ঞ মহলের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেখা গেছে, শিক্ষিত মেয়েদের সন্তানসংখ্যা কম। স্কুলে না যাওয়া নারীদের প্রজনন হার যেখানে ২ দশমিক ৮, সেখানে বিদ্যালয়ে যাওয়া নারীদের প্রজনন হার ১ দশমিক ৮।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের তৈরি প্রতীচী ট্রাস্টের জাতীয় গবেষণা সমন্বয়ক সাবির আহমেদ গতকাল সন্ধ্যায় এই সমীক্ষা সম্বন্ধে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই রিপোর্ট খুবই আশাব্যঞ্জক। ২০০৪-০৫ সাল থেকে দেশজুড়ে আশার স্বাস্থ্যকর্মীরা যে কাজ করে চলেছেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এবং শহরের দরিদ্রদের মধ্যে তৃণমূল স্তরে যেভাবে তাঁরা স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াচ্ছেন, এটা তারই ফল।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন