default-image

শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে আঁকড়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধ থাকা আলোচনা আবার শুরু করার প্রক্রিয়া শুরু করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই উদ্যোগকে শুধু পাকিস্তানকেন্দ্রিক না রেখে মোদি তা সার্ককেন্দ্রিক করে তুললেন। সার্ক সদস্যভুক্ত যে দেশগুলো ক্রিকেট খেলে এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে, সেই পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী এবং আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদি ফোনে কথা বলেন। বিশ্বকাপে সফল হওয়ার জন্য শুভকামনাও জানান তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন জানান, ভারতের নতুন পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর শিগগিরই পাকিস্তানসহ সব সার্ক দেশে যাবেন। আকবরউদ্দিন এই উদ্যোগকে ‘সার্ক যাত্রা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সার্ক সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরগুলোর মূল উদ্দেশ্য। তবে কূটনীতিক ও রাজনীতিকরা যখন মিলিত হন, তখন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও কথা হয়। এসব ক্ষেত্রেও তা হবে।

‘ভালো খবর’ নিয়ে বাংলাদেশে যাবেন মোদি
প্রধানমন্ত্রী মোদি আজ শুক্রবার নিজেই টুইট বার্তায় চার দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোদি বলেন, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশে ‘ভালো খবর’ নিয়ে আসবেন। এই আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা এবং অন্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও তাঁদের কথা হয়। মোদিই জানান, নতুন পররাষ্ট্রসচিব জয়শঙ্কর শিগগিরই বাংলাদেশে যাবেন। মোদি কবে ঢাকায় যাবেন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু বলা না হলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মার্চ মাসেই সেই সফর হতে পারে। মার্চে মোদি শ্রীলঙ্কায়ও যাবেন।

নয় মাস আগে নিজের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদি সার্ক দেশের নেতাদের দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তা রক্ষা করাই যে তাঁর লক্ষ্য, সে কথা মোদি বারবার জানিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত বছরের অাগস্ট মাসে তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের পাকিস্তান সফরের আগে ভারত তা বাতিল করে দেয়। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে পাকিস্তানের হাইকমিশনার কেন কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন, সেই প্রশ্ন তুলে ভারত একতরফাভাবে আলোচনা বাতিল করে। ক্রিকেটকে আঁকড়ে সেই বন্ধ থাকা আলোচনার দরজা ফের খুলতে মোদিই উদ্যোগী হলেন। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে ক্রিকেট কূটনীতি বারবার এসেছে। আশির দশকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক ভারতের রাজস্থানে জয়পুরে দুই দেশের ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন। তারপর বহুবার ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো করা বা বন্ধ আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারও সেই ক্রিকেটই হাতিয়ার হলো। যদিও তা কোনো বিশেষ দেশকেন্দ্রিক না করে মোদি অঞ্চলকেন্দ্রিক করে তুললেন। আকবরউদ্দিন বলেন, এই উপমহাদেশে ক্রিকেটই ‘কমন’ ধর্ম। ক্রিকেট মারফতই মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক দৃঢ় করা যায়।

যে কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত আলোচনা বন্ধ করেছিল, সেই শর্ত এখনো জারি আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে আকবরউদ্দিন তার জবাব না দিয়ে বলেন, কথা প্রধানত সার্ক সম্পর্ক নিয়েই হবে। তবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও হবে। জয়শঙ্কর কবে পাকিস্তান যাবেন, আকবরউদ্দিন তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। তাঁর জবাব, দুই সপ্তাহের মধ্যে নয়। পাকিস্তান দিয়ে জয়শঙ্করের সফর শুরুও হচ্ছে না। ঢাকায় সফর কবে, সে কথাও স্পষ্ট করে তিনি বলেননি।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে মোদি ‘ভালো খবর’-এর যে বার্তা দিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে, তার ব্যাখ্যা কী? পররাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, সেই ‘ভালো খবর’ সীমান্ত চুক্তির রূপায়ণ হতে পারে। চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের সংসদীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনেই দেশের বাজেট পেশ ও পাস হয়। অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হবে ২০ মার্চ। এই সময়ের মধ্যেই সীমান্ত বিল রূপায়ণের জন্য ১১৯তম সংবিধান সংশোধন বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংসদের দুই কক্ষেই পাস করাতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস বিল পাসে রাজি হওয়ায় আর কোনো সংশয়ও থাকছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের মতে, বিল পাস করিয়েই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে যাবেন। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। সেই দিনটিকেও প্রধানমন্ত্রী মোদি পছন্দ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন