default-image

জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারযুদ্ধ। এই নির্বাচনের প্রচারকে ঘিরে তৃণমূল এবং বিজেপির বাগ্‌যুদ্ধ জমে উঠেছে। কেউ কাকে ছাড়ছে না। প্রতিমুহূর্তেই জবাব পাল্টা–জবাব আসছে প্রতিপক্ষ দলের কাছ থেকে।  

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দফা নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখনো বাকি আরও ৫ দফার নির্বাচন। শেষ দফার নির্বাচন হবে ২৯ এপ্রিল। আর ফলাফল ঘোষণা হবে ২ মে।  

প্রধানমন্ত্রী মোদি এখন নিয়মিত ভোটের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গ আসছেন। যোগ দিচ্ছেন বিজেপি আয়োজিত বিভিন্ন জনসভায়। গতকাল মঙ্গলবারও তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসে কোচবিহার ও হাওড়ার দুটি জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিটি জনসভায় মোদি কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে। সব সময় দাবি তোলেন, এই বাংলা থেকে মমতা দিদিকে হটানোর, বিজেপির সরকার গড়ার।

আর মোদি যখন তাঁর ভাষণ দেন, তখন তিনি ভাষণের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে উদ্দেশ্য করে ‘দিদি ও দিদি’ সম্বোধন করে বক্তব্য দেন। আর মোদির এই সম্বোধনকে মেনে নিতে পারছে না তৃণমূল। তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা, অভিনেত্রী জুন মালিয়া এবং শিক্ষাবিদ অনন্যা চক্রবর্তী গত রোববার কলকাতার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোদিকে কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, টোন কেটে মোদির ‘দিদি ও দিদি’ সম্বোধন করাকে মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। এটি দিদিকে কটাক্ষ বা তাচ্ছিল্য সহকারে সম্বোধন করা ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁরা আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এভাবে একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে শ্লেষাত্মক সুরে সম্বোধন করা দুর্ভাগ্যজনক। এটা ভাষার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে হেনস্তা আর তাচ্ছিল্য করার শামিল। অপমান করার শামিল। এর বিরোধিতা করছি আমরা।

বিজ্ঞাপন

যদিও এর পাশাপাশি ওই দিনই এই প্রসঙ্গে বিজেপির মহিলা নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেছেন, মোদিজিতো তুই তোকারি সম্বোধন করেন না মমতাকে। তাঁকে দিদি বলেই সম্বোধন করেন। বরং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই তোকারি’ বলতে কুণ্ঠিত হচ্ছেন না।

এই দিদি ও দিদি সম্বোধন করার পাল্টা এবার সম্বোধন করেছেন বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি গতকাল মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বাজার হাইস্কুল মাঠে তৃণমূলের নির্বাচনী জনসভায় বলেন, ‘আমি যদি বারবার প্রধানমন্ত্রীকে “নরেন ও নরেন” বলে সম্বোধন করি, তবে কেমন লাগবে? প্রধানমন্ত্রীর নাম নরেন্দ্র মোদি। তাই বলছি, প্রধানমন্ত্রীর ভাষাজ্ঞান নেই। তিনি একজন মহিলাকে ব্যঙ্গের ছলে দিদি ও দিদি বলছেন, এটা সত্যিই লজ্জার বিষয়। তাই আমরা যদি এখন “নরেন ও নরেন” বলি কেমন লাগবে?’

এর আগে সোমবার আবার টালিউড তারকা ও বারাসাত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিনেতা চিরঞ্জিৎ ‘দিদি ও দিদি’র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ও মোদি, মোদিরে, আবার কবে আসবি মোদিরে, ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করে কত টাকা খরচা করছিস রে!’এরপরই আবার চিরঞ্জিৎ বলেন, ‘এই টাকা তো তুলবি আমাদের কাছ থেকে রে! সোমবার বারাসাতের বামনগাছির বড়পোল এলাকায় তৃণমূলের এক নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন অভিনেতা চিরঞ্জিৎ।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন