বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে গত শুক্রবার এই কৃষক নেতা বলেছিলেন, দেশের কৃষকেরা বিক্ষোভ বন্ধ করে কোথাও যাবেন না। যদি এক সরকার পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে, তাহলে জনসমর্থন পাওয়া এই বিক্ষোভ তত দিন চলবে, যত দিন ভারত সরকার এমএসপির নিশ্চয়তা দিয়ে আইন পাস ও তিনটি কৃষি আইন বাতিল করবে না।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি আইন (সংশোধিত) পাস করে। এই তিন আইনের বিরুদ্ধে গত ২৬ নভেম্বর থেকে ভারতের হাজারো কৃষক রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এরপর সরকারের সঙ্গে কয়েক দফায় কৃষক নেতাদের আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

কৃষক আন্দোলন সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে শুরু হয় রেল ও সড়ক অবরোধ। এতেও কাজ না হওয়ায় সারা দেশের অধিকাংশ কৃষক সংগঠন ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের ডাক দেয়। একপর্যায়ে রাজধানী দিল্লি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

নতুন আইনে কৃষিবাজারের (ভারতে যা ‘মান্ডি’) ওপর রাজ্যের একচেটিয়া অধিকার আর থাকবে না। বহুজাতিক সংস্থাগুলো তাদের পছন্দমতো ‘মান্ডি’ তৈরি করতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা, কোন দামে চাষি তাঁর পণ্য বেচবেন, তা বাজারই ঠিক করে দেবে। কৃষক বিক্ষোভের বড় কারণগুলোর মধ্যে এটা অন্যতম।

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (এমএসপি) নিয়ে। ভারতের কৃষিব্যবস্থায় এমএসপি প্রথা চালু রয়েছে বহু দশক ধরে। চাষিকে বাঁচিয়ে ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন ফসলের এমএসপি ঠিক করে দেয়। সেই দামের নিচে সরকার ফসল কিনতে পারে না।

নতুন আইনে এই প্রথা বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি। সরকার এমএসপি রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও কৃষক সংগঠন ও বিরোধীরা চাইছে, এমএসপি প্রথাকে নতুন আইনের আওতায় এনে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করতে, যাতে বেসরকারি দেশি ও বহুজাতিক সংস্থা কম দামে ফসল বিক্রিতে কৃষককে বাধ্য করাতে না পারে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন