বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছরের মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময়েই এমন পদক্ষেপ নেন শিক্ষক দীপ নারায়ণ। গ্রামের অলিগলির পাশে থাকা বাড়িগুলোর দেয়ালকে তিনি ব্ল্যাকবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। রাস্তার ওপরই শিশুদের পড়াশোনা শেখাতে শুরু করেন।

default-image

রয়টার্সের প্রতিবেদনে এক সকালের বর্ণনায় জানা যায়, শিশুরা এ রকমই একটি দেয়ালে আঁকা বোর্ডে চক দিয়ে লিখছে। পাশেই নায়েক আরেক শিশুকে শেখাচ্ছেন কীভাবে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করতে হয়। গ্রামটিতে ইন্টারনেটের সুবিধা কম। নায়েক ল্যাপটপে শিশুদের শেখাচ্ছেন ইন্টারনেটের নানা ব্যবহার।

নায়েকের কাছে লেখাপড়া শেখে কিরণ তুরির সন্তান। কিরণ তুরি রয়টার্সকে বলেন, বিধিনিষেধ আরোপের সময় থেকে আমাদের শিশুদের লেখাপড়া বন্ধ। শিশুরা ঘোরাফেরা করে সময় কাটাত। শিশুদের পড়াশোনা চলমান রাখতে এগিয়ে আসেন শিক্ষক দীপ নারায়ণ নায়েক।

নায়েক মহামারির এ সময়টায় শিশুদের সবকিছুই শিখিয়েছেন। নার্সারিতে পড়া শিশুদের তিনি যেমন ছড়া শিখিয়েছেন, তেমনি মাস্ক পরা, হাত ধোয়ার নিয়ম ও গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। নায়েকের স্কুলে শিক্ষার্থী প্রায় ৬০ জন। গ্রামবাসী ভালোবেসে নায়েকের নাম দিয়েছেন পথশিক্ষক (টিচার অব দ্য স্ট্রিট)।

default-image

গত মাসে ভারতে স্কুলগুলো খুলে যাওয়া শুরু হয়েছে। মহামারি বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীরা শিশুদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্কুলগুলো পুরোপুরি খুলে দিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত আগস্ট মাসে ১ হাজার ৪০০ স্কুলগামী শিশুর ওপর জরিপ চালিয়েছে স্কলার্স গ্রুপ রোডস্কলার্জডটনেট (https://roadscholarz.net )। ওই জরিপ বলছে, গ্রামাঞ্চলে মাত্র ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত অনলাইনে পড়াশোনা করেছে। ৩৭ শতাংশ কোনো পড়াশোনাই করেনি। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় অর্ধেক শিশু শব্দও পড়তে পারে না। আর বেশির ভাগ শিশুর মা-বাবা শিগগির স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন।

নায়েক বলেন, তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, বিশেষ করে যারা কেবল স্কুলজীবন শুরু করেছে। যাদের মা-বাবা দিন আনে দিন খায়, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তিনি। নায়েকের শঙ্কা ছিল, এসব শিশু স্কুলে আসতে না পারলে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়বে। স্কুল বন্ধ থাকার সময় নায়েক শিশুদের গ্রামে ঘুরে বেড়াতে দেখেছেন। গবাদিপশু চরাতে দেখেছেন। এসব শিশুর পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন নায়েক। আর তাই তিনি হাতের কাছে যা আছে, তা দিয়েই শিশুদের লেখাপড়ায় ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। দূরত্ব বজায় রেখে শিশুদের বসানোর জন্য গ্রামের রাস্তা বেছে নেন। রাস্তার পাশে থাকা ঘরের দেয়ালগুলো বানিয়ে ফেলেন বোর্ড। নায়েকের বানানো এমন স্কুলেই করোনাকালে চলতে থাকে শিশুদের লেখাপড়া।

নায়েকের এমন উদ্যোগ বুঝিয়ে দেয়, ইচ্ছা থাকলেই উপায় বের করা যায়। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ না হওয়ায় নায়েকের এমন ভূমিকার জন্য তাঁকে ভালোবেসেছে গ্রামবাসীও। ভালোবেসে তাঁর নাম দিয়েছে পথশিক্ষক।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন