বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে। আরিফ মোহাম্মদ খানের সঙ্গে সম্প্রতি ভারতের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে বিতর্ক ও বাদানুবাদ এমনকি ধাক্কাধাক্কিও হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি শাহবানু মামলায় কংগ্রেসের অবস্থানের বিরোধী ছিলেন। সে কারণে তিনি কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দুবার সাংসদ হয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এসব ভেবে আরিফ মোহাম্মদ খানকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে।

এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে—রাজ্যপাল হিসেবে কাকে আনবে কেন্দ্রীয় সরকার? তবে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, মমতা বা রাজ্যপাল কেউই মুখ খোলেননি।

২০১৯ সালের ৩০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির বিদায়ের পর রাজ্যপাল হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ পান ধনখড়। তৃণমূলের দাবি, রাজ্যপাল একজন নিরপেক্ষ প্রশাসক। কিন্তু তিনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না। বরং তিনি তাঁর কাজেকর্মে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করছেন তিনি বিজেপির লোক। বিশেষ করে রাজ্যপালের যেখানে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই, সেখানেও তিনি নিয়মিত হস্তক্ষেপ করছেন। আর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গে একের পর এক টুইট করছেন।

ধনখড় পেশায় ছিলেন দিল্লির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। বিজেপির একনিষ্ঠ নেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন রাজস্থান বিধানসভার বিধায়ক। লোকসভার সদস্য ছিলেন ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে আসার পর ধনখড়ের সংঘাত শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতার সঙ্গে। সেই সংঘাত এবারের বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখনো চলমান। বারবার তিনি এই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা বলেছেন। বলেছেন, রাজ্য সরকার এই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। সে জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাজভবনে ডেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বেশ কয়েকবার। তাঁর এসব কার্যকলাপে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাজ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এর আগে রাজভবনের কিছু কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলেছে রাজ্য সরকার।