default-image

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার বোড়াল মহাশ্মশানঘাটে গত বুধবার কলকাতা পৌর করপোরেশনের গাড়িতে আনা ১৪টি মৃতদেহের সৎকার নিয়ে এখন জোর বাগ্যুদ্ধ চলছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের। গতকাল শনিবার রাজ্যপাল এক টুইটবার্তায় বলেছেন, ওই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

রাজ্যপাল বলেন, ১৪টি মৃতদেহের সৎকার নিয়ে মহাশ্মশানটে যে ঘটনা ঘটেছে তা অমানবিক, অসংবেদনশীল ও হৃদয়হীন ঘটনা। সমাজের প্রথা অনুযায়ী শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে সৎকার করা উচিত। তা হয়নি।

রাজ্যপাল এ কথাও বলেছেন, তিনি এ-সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য কলকাতা করপোরেশনের মুখ্য প্রশাসক ও সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে ডেকেছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ হাকিম আসেননি। রাজ্যপাল কথা বলেছেন করপোরেশনের পুর কমিশনার বিনোদ কুমারের সঙ্গে। সেখান থেকেই রাজ্যপাল এই ১৪টি মৃতদেহকে যেভাবে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়েছেন। যেভাবে মৃতদেহগুলো আঁকশি বা লোহার হুক দিয়ে টেনে নামানো হয়েছে, তা বর্বরোচিত এবং অশোভনীয়।

এর পরেই রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে একটি চিঠি দিয়ে গতকাল জানানো হয়, ওই মৃতদেহের সঙ্গে করোনার কোনো যোগ নেই। ওগুলো বেওয়ারিশ।

চিঠিতে বলা হয়, ‘মৃতের প্রতি সম্মান জানানোর একটা রীতি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ নিয়ে শ্রদ্ধাশীল। কোভিডের ক্ষেত্রেও তথ্য নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। কোভিডে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়রা যাতে মৃতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারে, তার ব্যবস্থাও করেছে রাজ্য সরকার। মৃতদেহ সৎকারের ব্যাপারেও মেনে চলা হয় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা। মৃতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।’

এক টুইটে পৌর প্রশাসক ও সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ‘রাজ্যপালের আচরণ পক্ষপাতমূলক। তিনি বিরোধীদের মতো আচরণ করছেন। রাজভবনকে তিনি বিজেপির পার্টি অফিস করেছেন। তিনি রাজ্যপাল পদের অমর্যাদা করেছেন। তিনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। অথচ তিনি সেভাবে আচরণ করছেন না। রাজভবনও বিজেপির দপ্তর নয়। এটা বুঝছেন না তিনি।’

এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘এত অযোগ্য মেয়র এর আগে কলকাতা করপোরেশনে আসেননি।’

বুধবার কলকাতা করপোরেশন বিশেষ একটি আটকানো গাড়িতে ১৪টি মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যায় দক্ষিণ কলকাতার ওই মহাশ্মশানে। মৃতদেহগুলো অনেকটাই বিকৃত ছিল। বিশেষ গাড়ি থেকে তা নামানো হয় একেবারে অমানবিকভাবে, আঁকশি বা বড় আকারের চিমটি বা লোহার হুক দিয়ে।

স্থানীয় লোকজন এতগুলো মৃতদেহ আনায় সন্দেহ করে। তারা মনে করতে থাকে, এগুলো হয়তো করোনায় আক্রান্ত মৃতদেহ। ফলে স্থানীয় লোকজন ওই মৃতদেহ শ্মশানে সৎকার করতে আপত্তি তোলে। এলাকাবাসী বিক্ষোভও দেখায়। এ সময় ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর। তিনিও আপত্তি তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৃতদেহগুলো ফের ওই গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

এই ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর কলকাতা করপোরেশনের মুখ্য প্রশাসক ও পশ্চিমবঙ্গের পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, মৃতদেহগুলো অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের। নিয়মমতো ৪৫ দিন মর্গে রেখে দেওয়ার পর তা দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গড়িয়া শ্মশানঘাটে যা হলো, তা দুর্ভাগ্যজনক।

ঘটনার পর এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার বলেন, ‘ওই মৃতদেহগুলো করোনা রোগীর নয়। বেওয়ারিশ। আমরা নির্দিষ্ট সময় বেওয়ারিশ লাশ আমাদের মর্গে রেখে দেওয়ার পর তা সৎকার করার ব্যবস্থা করার জন্য তুলে দিই কলকাতা করপোরেশনের হাতে। তারাই বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করে থাকে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0