রামমন্দিরের পুরোহিতসহ আক্রান্ত ১৫, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে সংশয়

বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ ৫০ হাজারের গণ্ডি পেরোনোর দিনই অযোধ্যায় রামমন্দিরের আসন্ন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠে গেল। আজ বৃহস্পতিবারই খবর এসেছে, অস্থায়ী রামমন্দিরের অন্যতম পুরোহিতসহ মন্দির চত্বরে মোতায়েন ১৪ জন পুলিশ কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আগামী ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীসহ বহু গণ্যমান্যের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ঘিরে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ, বিজেপির নবতিপর নেতা লালকৃষ্ণ আধবানি, মুরলী মনোহর যোশিসহ অন্তত ২০০ জন অতিথি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা নির্ভর করছে স্পেশ্যাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) সবুজ সংকেতের ওপর। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরই।

রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট জানিয়েছে, আক্রান্ত পুরোহিতের নাম প্রদীপ দাস। তিনি প্রধান পুরোহিত সত্যেন্দ্র দাসের প্রধান সহকারী। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের মন্দির ভ্রমণের সময় তিনি সারাক্ষণ তাঁর পাশে ছিলেন। ট্রাস্ট জানায়, প্রধান পুরোহিতেরও নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তিনি সুস্থ। অযোধ্যায় এই মুহূর্তে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৫। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি এখনো অপরিবর্তিত।

কয়েক দিন ধরে ভারতে দৈনিক ৪৭ থেকে ৪৮ হাজার নতুন রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল। বুধ–বৃহস্পতিবার তা একলাফে ৫ হাজার বেড়ে ৫২ হাজার পেরিয়ে যায়। মৃত্যু হয় ৭৭৫ জনের। দৈনিক মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যায় এখন পর্যন্ত এটাই সর্বাধিক। এর ফলে ভারতে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়াল পৌনে ১৬ লাখ। মাত্র ১৩ দিন সময় নিয়েছে সংক্রমণ ১০ থেকে পৌনে ১৬ লাখে পৌঁছাতে।
রোগাক্রান্ত, রোগমুক্তি ও ‘পজিটিভিটি রেট’ বা সংক্রমণের হার প্রতিদিনই পেন্ডুলামের মতো ঘোরাফেরা করছে। দৈনন্দিন কত নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে এবং তার মধ্যে কতজন সংক্রমিত, সেটাই হচ্ছে পজিটিভিটি রেট। এই হার গত কদিনে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছিল। তা ছিল যথেষ্ট আশাপ্রদ। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের এই হার পৌঁছে যায় ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশে। অবশ্য এই সময়ে নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে সর্বাধিক। ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। ফলে সংক্রমণও হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়ে গেছে। মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার।

অবশ্য স্বস্তির কারণও রয়েছে সুস্থতার পরিসংখ্যানে। এখন পর্যন্ত করোনামুক্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২০ হাজার ৫৮২ জন। সুস্থতার হার ৬৪ দশমিক ৪৪।

ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে শুরু থেকেই সবার আগে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এই রাজ্যে মোট সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুতেও শীর্ষে। ১৪ হাজার ৪৬৩। স্বাভাবিক কারণেই এই রাজ্যে স্থানীয়ভাবে লকডাউনের মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মৃত্যুতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রাজধানী দিল্লি (৩ হাজার ৯০৭)। তবে এই রাজ্যে নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যু হার কমতির দিকে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা তামিলনাড়ু নিয়ে সরকারের চিন্তা খুব। দক্ষিণি এই রাজ্যে মোট সংক্রমিত ২ লাখ ৩৪ হাজার ১১৪, মৃত্যু ৩ হাজার ৭৪১। গুজরাটে মারা গেছেন ২ হাজার ৩৯৬ জন। মৃত্যু ২ হাজার ছাড়িয়েছে কর্ণাটকেও। বস্তুত তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও অন্ধ্র প্রদেশে সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। শুধু অন্ধ্র প্রদেশেই গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সবাই তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে রয়েছে প্রতিষেধকের দিকে। বিশেষজ্ঞরা কিছুদিন আগেও জোর দিচ্ছিলেন ‘হার্ড ইমিউনিটির’ ওপর। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের বৈচিত্র্য ও জনঘনত্ব এমনই যে শুধু হার্ড ইমিউনিটির ওপর ভরসা করা অনুচিত। ওটা হলো পরোক্ষ রক্ষাকবচ। রোগাক্রান্ত ও রোগমুক্তি থেকেই হার্ড ইমিউনিটি জন্মায়। আর জন্মায় প্রতিষেধকের ফলে। অতএব প্রয়োজন প্রতিষেধকের। যত দিন না তা আসছে, তত দিন নিজেদের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব জনতার ও সরকারের।

এই অবস্থায় দেশের অধিকাংশ রাজ্যে ৫ আগস্ট থেকে আরও এক দফা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে। স্কুল–কলেজ ও কোচিং কেন্দ্র ৩১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হলেও জিম বা যোগা কেন্দ্র খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানও নিয়ম মেনে করা যাবে। মেট্রো রেল, সিনেমা–থিয়েটার, সুইমিং পুল, বিনোদন পার্ক, প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকবে। বড় রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া বা ধর্মীয় জমায়েতও নিষিদ্ধ। প্রশাসন বলেছে, সব নিয়ম মেনে ৫ আগস্ট অযোধ্যায় ২০০ জন থাকবেন। কিন্তু এই সংখ্যা অনুমোদনযোগ্য কি? প্রশ্ন উঠছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন