বিজ্ঞাপন

প্রধান বিচারপতি রামানা, বিচারপতি এ এস বোপান্না ও বিচারপতি হৃষিকেশ রায়ের বেঞ্চ অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের কাছে সরাসরি জানতে চান, ঔপনিবেশিক এই আইন ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ (ক) ধারা এখনো বলবৎ রাখার যৌক্তিকতা কোথায়?

বিচারপতিরা বলেন, দেশের সর্বত্র মুড়িমুড়কির মতো এই আইনের প্রয়োগ হচ্ছে। অপব্যবহার করা হচ্ছে। যে যার খুশিমতো এই আইনে মানুষকে বন্দী করছে। অথচ কাউকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। কোনো পুলিশ কর্তা গ্রামের কাউকে জুয়া খেলার জন্য শিক্ষা দেবেন মনে করলে ১২ (ক) ধারায় মামলা ঠুকে দিতে পারেন। এই আইনে এত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ সে জন্য ভীত, সন্ত্রস্ত, আতঙ্কগ্রস্ত।

প্রধান বিচারপতি বলেন, গাছ কাটার জন্য ছুতারের হাতে করাত তুলে দেওয়া হয়েছে অথচ সে পুরো জঙ্গল কেটে সাফ করে দিচ্ছে। ব্যাপারটা ঠিক এমন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তিনি জানতে চান, সরকার এত সব প্রাচীন অপ্রাসঙ্গিক আইন খারিজ করছে, এটার দিকে কেন নজর দিচ্ছে না?

অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল অবশ্য আইনটি বলবৎ রাখার পক্ষেই অভিমত দেন। তবে বলেন, কিছু বিধি-নিয়ম জারি করা যেতে পারে, যাতে আইনের অপব্যবহার না হয়। কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিষয়ে হলফনামা দাখিল করতে বলা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এস জি ভোম্ববাটকেরে এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এই কড়া মনোভাব প্রকাশ করেন। আবেদনকারীর বক্তব্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারা সংবিধানের ১৯(১)(ক), ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এই ধারা অস্বচ্ছ ও বাক্‌স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার হরণ করে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে এই আইন অবিলম্বে খারিজ করে দেওয়া দরকার।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন