default-image

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা অমিত শাহ বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ বছরের শাসনে সিঙ্গুরে একটি শিল্পও গড়ে ওঠেনি। এখানকার মানুষকে হতাশ করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

এদিকে তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহারে দলীয় জনসভায় বলেছেন, বিজেপি এখন বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে মেতেছে।

আজ বুধবার সিঙ্গুরে বিজেপি প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের পক্ষে প্রচারে এসে রোড শোতে অংশ নেন অমিত শাহ। এই সময় তিনি সিঙ্গুরে শিল্প গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অমিত শাহ বলেন, সিঙ্গুরে শিল্প গড়তে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেবে সরকার। সিঙ্গুরে গড়া হবে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

বিজেপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সিঙ্গুরের মানুষ এবার রাস্তায় নেমেছে পরিবর্তনের দাবিতে। এলাকাজুড়ে দাবি উঠেছে শিল্পায়নের। সুন্দরবন, জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মানুষ চাইছে পরিবর্তন। দিদির শাসন থেকে মুক্তি।’

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিঙ্গুরের ঐতিহাসিক পরিচিতি রয়েছে। ২০০৭ সালের সিঙ্গুরে টাটা শিল্পগোষ্ঠীকে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়তে তখনকার বাম ফ্রন্ট রাজ্য সরকার ৯৯৭ একর জমি লিজ দেয়। জমি অধিগ্রহণ শুরু হলে তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আন্দোলনে যোগ দেন। স্থানীয়দের তুমুল আন্দোলনের মুখে টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটে কারখানা সরিয়ে নেয়। পরে অধিগ্রহণ হওয়া জমি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মূল মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সিঙ্গুর আর নন্দীগ্রাম আন্দোলন মমতাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে যায়। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। সিঙ্গুর আন্দোলনে মমতার সঙ্গী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। চলতি বছরের শুরুতেও ‘মাস্টারমশাই’ নামে পরিচিত ৮৪ বছরের এ রাজনীতিক ছিলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী মুখ। সিঙ্গুরের বিধায়ক। মমতার ঘনিষ্ঠ। তবে বয়সের কারণে এবারের নির্বাচনে তাঁকে মনোনয়ন দেননি মমতা। সেই ক্ষোভে গত ৮ মার্চ তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন মাস্টারমশাই। বিজেপি তাঁকে সিঙ্গুরে মনোনয়ন দেয়।

আজ অমিত শাহ সিঙ্গুর ছাড়াও হাওড়া, ডোমজুর, বেহালাসহ আরও তিনটি রোড শোতে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তিন দফায় ৯১টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ থেকে ৬৮ আসনে জয় পাবে বিজেপি।

default-image

অমিত শাহর পাশাপাশি আজ বিজেপি প্রার্থীদের পক্ষে রোড শো করেন দলটির অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি হাওড়া, পাচলা, সোনারপুর, আন্দুলে প্রচার চালান।

নন্দীগ্রামে আমিই জিতছি: মমতা

তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘তিন দফায় ৯১ আসনের ভোটে আমরা জিততে চলেছি। নন্দীগ্রামে আমিই জিতছি।’ আজ কোচবিহারে তৃণমূলের এক জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিজেপি এখন বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে মেতেছে। সিএএ ও এনপিআর নিয়ে ওরা মিথ্যা বলছে। এই বাংলায় সিএএ ও এনপিআর কার্যকর করতে দেওয়া হবে না।

নন্দীগ্রাম আসনে মমতার প্রতিপক্ষ একসময়ে তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী শুভেন্দু সম্প্রতি মমতার সাহচর্য ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাই ভোটের মাঠে মমতা-শুভেন্দুর দ্বৈরথ এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনকে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।

কোচবিহারের জনসভায় মমতা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমালোচনা করে ভোটারদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটদানে বাধা দিলে সোচ্চার হোন। ভোটের সময় এরা বিজেপি হয়ে যায়। নারীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করে রাখুন। একদল ঘেরাও করুন আর একদল ভোট দিন। শুধু ঘেরাও করে থাকলে আপনি ভোট দিতে পারবেন না। তাই একদল ঘেরাও করুন। অন্য দল ভোট দিন।’

বিজ্ঞাপন

মমতার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলটির নেতাদের মতে, মমতার এই মন্তব্য দেশদ্রোহের শামিল। বিজেপি এই মন্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানিয়েছে।

মমতা আজ কোচবিহারে প্রচার সেরে কলকাতায় ফিরেছেন। এরপর তিনি যাদবপুর ও টালিগঞ্জে প্রচারে অংশ নেন। তৃণমূলের তরুণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বিকেলে রোড শো করেন হাওড়ার শিবপুরে।

অন্যদিকে আজ বিকেলে বাম দল-কংগ্রেস ও আইএসএফের সমন্বয়ে গঠিত সংযুক্ত মোর্চার ডাকে দক্ষিণ কলকাতায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাম ফ্রন্টের নেতা বিমান বসু এবং কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন