বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এবারের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে আলোচিত ছিল তিনটি কৃষি আইন বাতিলসংক্রান্ত বিলটি। এ ছাড়া মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ বছর করা ও ভোটার কার্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র বা আধার কার্ডের সংযুক্তকরণ বিল নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের বিলের মতো আধার কার্ডের সংযুক্তকরণ বিলটিও রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস করানো হয়েছে।
বিরোধীদের মতে, আধার কার্ডের সংযুক্তকরণের ফলে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের হাতে ভোটারের সব ধরনের তথ্য চলে আসবে। শাসক দল তা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে। নির্বাচনে কারচুপিও করা যাবে। যদিও সরকারের দাবি, এর ফলে ভুয়া ভোটার ধরা সহজ হবে। নির্বাচনী সংস্কারের জন্য এটি জরুরি।

মেয়েদের বিয়ের বয়স বাড়ানোসংক্রান্ত বিলটি অবশ্য নরেন্দ্র মোদি সরকার আরও বিবেচনার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠাতে রাজি হয়েছে। এ বিলে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ভারতে পুরুষ ও নারীর বিয়ের বয়স একই হবে। বিভিন্ন অধিকার সংগঠন ও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ বিলের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, তাড়াহুড়া করে বিলটি পাস না করিয়ে আরও বিবেচনা করা দরকার ছিল। কেননা এর সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতি ও আর্থসামাজিক প্রশ্ন জড়িত।

ভারতীয় সংসদের সর্বশেষ বর্ষাকালীন অধিবেশনও বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে বানচাল হয়েছিল। ওই সময় বিক্ষোভ দেখানোর অপরাধে রাজ্যসভার বিরোধী দলের ১২ সদস্যকে শেষ দিনে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবারের অধিবেশনের শুরু থেকেই বরখাস্তের নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবিতে বিরোধীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়নি; বরং গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়ানকে।

সদ্য সমাপ্ত শীতকালীন অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভা ও রাজ্যসভার কোথাও একটিও প্রশ্নের উত্তর দেননি। তিনি ভারতের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি গত সাড়ে সাত বছরে একবারের জন্যও সংসদে বিরোধীদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। এমনকি এ সময় তিনি সাংসদদের কাউকে প্রশ্ন করার সুযোগও দেননি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন