default-image

সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলায় জড়ানো তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়, সাবেক তৃণমূল সাংসদ ও বর্তমান তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের সহকারী দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের ৩ কোটি রুপির বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে শতাব্দী, কুণাল ও দেবযানীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করল ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
কুণাল ঘোষের ২ কোটি ৬৭ লাখ রুপি, শতাব্দীর ৩০ লাখ রুপি ও দেবযানীর ১৬ লাখ রুপির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠা সারদা থেকে নেওয়া ২ কোটি ৬৮ লাখ রুপি কুণাল ঘোষ গত মাসে ইডির হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কুণাল ঘোষ গত ১৮ মার্চ ডিমান্ড ড্রাফটের (ডিডি) মাধ্যমে এই টাকা ফিরিয়ে দেন। তাঁর বাকি সম্পদ এবার বাজেয়াপ্ত করল ইডি।

২০১৩ সালে সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়। ১৪ হাজার কোটি রুপির এই কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় শাসকদল তৃণমূলের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও নেতার। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তৎকালীন রাজ্যসভার সদস্য কুণাল ঘোষ, রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্র, সাংবাদিক ও সাংসদ সৃঞ্জয় বসু, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক ডিজি রজত মজুমদার, ক্রীড়াবিদ দেবব্রত সরকার প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর ২০১৩ সালের ১০ এপ্রিল সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে ১৮ পাতার একটি চিঠি লিখে যান। এতে তিনি বলেন, তাঁর বিরাট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডোবানোর পেছনে ছিল ২২ জন। ওই ২২ ব্যক্তিকে যেন দোষী করে তাঁর আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হয়।

সুদীপ্ত সেন আরও লেখেন, বারবার চাপ তৈরি করে তাঁর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে উল্লিখিত ব্যক্তিরা।
এরপরই গ্রেপ্তার হন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ, সাংবাদিক-সাংসদ সৃঞ্জয় বসু, রাজ্যের মন্ত্রী মদন মিত্রসহ বেশ কজন।

কুণাল ছিলেন সারদার মিডিয়া সেলের প্রধান। এখান থেকে কুণাল নিয়মিত বেতনসহ নানা আর্থিক সুবিধা নেন। কুণাল ৩৪ মাস কারাগারে থেকে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর জামিনে মুক্ত হন। জামিন পান মদন মিত্র, সৃঞ্জয় বসুরাও। ২০১৩ সালে কুণালকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করে দল।
কিছুদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পর কুণাল ফের তৃণমূলের রাজনীতিতে জড়ান। তিনি হয়ে যান তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র।

৮১ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তৃতীয় দফার নির্বাচন ৬ এপ্রিল। চতুর্থ দফার নির্বাচন ১০ এপ্রিল। চতুর্থ দফার নির্বাচন হবে রাজ্যের চার জেলার ৪৪ আসনে। এই নির্বাচনের প্রার্থীসংখ্যা ৩৭২ জন। এই প্রার্থীদের মধ্যে ৮১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৬৫ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগের মামলা। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে গতকাল শনিবার সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ওয়েস্টবেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফরমস।

সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপির ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। তৃণমূলের ১৭ জন ও সিপিএমের ১০ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৭২ প্রার্থীর মধ্যে ৬৫ জন কোটিপতি। ৫ কোটি বা তার বেশি সম্পদ রয়েছে ১৬ জনের। তৃণমূলের ৪৪ জনের মধ্যে ৩৪ জন ও বিজেপির ৪৪ জনের মধ্যে ১৮ জন কোটিপতি।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন