default-image

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবাহী শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষায় এবার এগিয়ে এলেন কলকাতা হাইকোর্ট। ঐতিহাসিক এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে কলকাতা হাইকোর্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়ে দিয়েছেন।

এই বিশ্বভারতীর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গত ১৭ আগস্ট বিশ্বভারতীতে সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বভারতীর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে সীমানাপ্রাচীর গড়ার বিপক্ষের একটি দল বাধা দেয় এ নির্মাণকাজে।  প্রাচীর নির্মাণের বিরোধীরা দাবি করেন, প্রাচীর দিয়ে আটকানো যাবে না কবিগুরুর ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতনকে। শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতী থাকবে খোলামেলা। সেদিন একপর্যায়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের বিরোধীরা ভাঙচুর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তর। বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট। এ ঘটনা নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষের দুই দল কয়েকটি মামলা দায়ের করে শান্তিনিকেতন থানায়। এসব মামলার জেরে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্বভারতীর প্রাচীর নির্মাণকাজ।

এদিকে এ ঘটনার জেরে বিশ্বভারতীর এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী রমাপ্রসাদ সরকার। গতকাল শুক্রবার সেই মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবি রাধাকৃষ্ণন ও বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে। এদিন প্রধান বিচারপতির এ ডিভিশন বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলার বিষয়টি তুলে বলেন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এর ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে। তাই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টিকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, বিশ্বভারতী আইন ১৯৫১ গভীরভাবে পর্যালোচনার পর আদালত মনে করেন, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সুরক্ষিত করাটা এখন আদালতের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এ কারণে এ মামলা চালানোর জন্য আর মামলাকারীর প্রয়োজন নেই। বিষয়টিকে ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হিসেবে গ্রহণ করে। আদালত আরও বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বভারতীর আওতাধীন এলাকা, সব স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তা সুরক্ষিত করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি বিশ্বভারতীর শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং আবাসিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই আদালত চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ চার সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন বিশ্বভারতীর শিক্ষা সমিতির সাবেক সদস্য ও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ওয়াই জে দস্তুর এবং রাজ্যের আইনজীবী জেনারেল কিশোর দত্ত।

এরপর আদালত নির্দেশ দেন, এ কমিটির অনুমতি ছাড়া ভবিষ্যতে বিশ্বভারতীর জমিতে কোনো নির্মাণ, নির্মাণরীতির পরিবর্তন এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য সরানো যাবে না। বিশ্বভারতীর জমি ও সম্পত্তি চিহ্নিতকরণের কাজ করবেন কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। জমি চিহ্নিতকরণের পর কমিটির সুপারিশে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ গোটা এলাকা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেবে। এ ছাড়া ১৭ আগস্ট প্রাচীর দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাছে যেসব অভিযোগ জমা পড়েছে, তার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া এ নিয়ে নিম্ন আদালতে যেসব মামলা হয়েছে, তার কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।

মন্তব্য পড়ুন 0