default-image

শেষ হয়েছে কলকাতায় আয়োজিত ‘৯ম বাংলাদেশ বইমেলা-২০১৯’। গতকাল রোববার ছিল মেলার শেষ দিন। আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় মেলা।

১ নভেম্বর কলকাতার রবীন্দ্র সদনের উল্টোদিক মোহরকুঞ্জ প্রাঙ্গণে এই বইমেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। এটিই বাংলাদেশের প্রকাশিত বই নিয়ে কলকাতার একক বইমেলা। ১০ দিনব্যাপী এই মেলায় বিপুল পরিমাণ পাঠকের সমাবেশ ঘটে। তবে মেলার নবম দিন ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বইমেলার অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। তবে শেষ দিন আবহাওয়া ভালো থাকায় বইমেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বইমেলার শেষ দিনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক দেবাশিস ভট্টাচার্য, সাংবাদিক আশিস চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক ইমানুল হক, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ এবং কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রথম সচিব মো. শামছুল আরিফ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান।

প্রধান অতিথির ভাষণে মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘ধর্মনির্ভর সংস্কৃতি কোনো দেশের উন্নয়ন বয়ে আনতে পারে না। তাই প্রয়োজন ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি। বঙ্গবন্ধুও বলেছিলেন কোনো রাষ্ট্র ধর্মভিত্তিক হওয়া ঠিক নয়। তাই আমাদেরও ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতি নিয়ে এগোতে হবে। বই সেই সংস্কৃতির সেতুবন্ধের কাজ করতে পারে।’

আলোচনা সভার পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে হাতে মোমবাতি নিয়ে গান গেয়ে বইপ্রেমীরা মেলা প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করার পর ৯ম বাংলাদেশ বইমেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এবারের বইমেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল কলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতি।

এবার বইমেলায় যোগ দিয়েছে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ৮০টি প্রকাশনা সংস্থা। এর মধ্যে অক্ষর প্রকাশনী, দি রয়্যাল পাবলিশার্স, দিব্য প্রকাশ, অঙ্কুর প্রকাশনী, মাওলা ব্রাদার্স, অনুপম প্রকাশনী, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ, কথা প্রকাশ, নালন্দা, কাকলী প্রকাশনী, ভাষাচিত্র, সৃজনী, নবযুগ প্রকাশনী, অন্বেষা প্রকাশনা, প্রতীক প্রকাশনা, শোভা প্রকাশ, বর্ণায়ন, প্রথমা প্রকাশন, আহমেদ পাবলিশিং হাউস উল্লেখযোগ্য।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন