default-image

পশ্চিমবঙ্গে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভার ষষ্ঠ দফার ভোট গ্রহণ হয়েছে। আজ ৪৩টি আসনের ভোট গ্রহণে কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হলেও সার্বিক পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল।

এদিকে কাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত পশ্চিমবঙ্গ সফর বাতিল করা হয়েছে।

আজ ভোট গ্রহণের সময় উত্তর চব্বিশ পরগনার টিটাগড়ে তৃণমূল ও বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। বোমায় আহত হন পাঁচজন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ব্যারাকপুর এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী অভিনেতা রাজ চক্রবর্তী গেলে বিজেপির সমর্থকেরা ‘গো ব্যাক’ ধ্বনি দেন। যদিও এই বিক্ষোভের মধ্যেই রাজ চক্রবর্তী ঘোষণা দেন, তিনি এই আসনে ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিততে চলেছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আজ উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরের একটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি বর্ষণের অভিযোগ তোলে তৃণমূল। বলা হয়, তাতে দুজন তৃণমূল সমর্থক আহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে জানিয়ে দেয়, অশোকনগরে কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।

এদিন কেতুগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার বীজপুরে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করেছে বিজেপি। বিজেপির এই আসনের প্রার্থী বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের সমর্থকেরা প্রথমে মারধর করেন বিজেপির কর্মী–সমর্থকদের। খড়দহ ও কাঁচড়াপাড়ায় তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসও ভাঙচুর করা হয়। হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জের গ্রামে সেতুর দাবিতে গ্রামের ভোটাররা ভোট বয়কট করে। মঙ্গলকোটে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে বোমা ও গুলির লড়াই হয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার আমডাঙ্গায় আইএসএফ কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে তৃণমূল। লাভপুরে বিজেপির প্রার্থী আক্রান্ত হন তৃণমূলের সমর্থকদের হামলায়। আউশগ্রামে তৃণমূলের হামলায় চার বিজেপি কর্মী আহত হন।

এসব ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া মোটামুটি অন্যান্য ভোটকেন্দ্রে শান্তিতে ভোট সম্পন্ন হয়। তবে আজ সকালে হাবড়ায় এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলেছে, ওই যুবককে কেউ হত্যা করে এখানে ডোবায় ফেলে গেছে। তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

default-image

২৯৪ আসনে ৮ দফায় অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে আজ ষষ্ঠ দফায় ভোট নেওয়া হয়েছে ৪ জেলার ৪৩ আসনে। জেলা চারটি হলো উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান ও উত্তর দিনাজপুর। এর মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনায় ১৭, উত্তর দিনাজপুর ও নদীয়ায় ৯টি করে এবং পূর্ব বর্ধমানে ৮টি আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এই ৪৩ আসনের প্রার্থী ৩০৬ জন।

এই করোনার আবহের মধ্যেই আজ সকাল সাতটা থেকে শুরু হয় এই রাজ্যের ষষ্ঠ দফার ভোট গ্রহণ। ভোট নেওয়া হয় ১৪ হাজার ৪৮০ ভোটকেন্দ্রে। সর্বশেষ গত ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ৪৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩২টি আসন। সিপিএম চারটি আর বিজেপি কোনো আসন পায়নি। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আলোকে হিসাব করলে দেখা যায়, তৃণমূল পেয়েছিল ২৪টি, বিজেপি ১৯টি এবং কংগ্রেস ও সিপিএম কোনো আসন পায়নি।

বিধানসভার সর্বশেষ দুই দফার নির্বাচন হবে ২৬ ও ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষিত হবে ২ মে।

বিজ্ঞাপন

মোদির সফর বাতিল

পশ্চিমবঙ্গ সফর বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কাল শুক্রবার তাঁর পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা ছিল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য তিনি কাল পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারছেন না।

বিজেপি আগে ঘোষণা দিয়েছিল শেষ প্রচারের জন্য মোদি পশ্চিমবঙ্গে চারটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে কাল পশ্চিমবঙ্গে আসবেন। চারটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন