default-image

বিতর্কটা দুভাবে হয়। প্রথমটা, ভারত যত স্বাভাবিক হচ্ছে, করোনা সংক্রমণ তত বাড়ছে। দ্বিতীয়টা, সংক্রমণ যত বাড়ছে নিষেধাজ্ঞাগুলোও তত বেশি করে প্রত্যাহৃত হচ্ছে। ভারতের করোনা চিত্রের সার কথা এটাই।

গত এক মাসে ভারতে করোনায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ লাখেরও বেশি মানুষ। এই মুহূর্তে মোট সংক্রমিত ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৪১। ৪ থেকে ৫ লাখ পৌঁছতে সময় লেগেছিল ৬ দিন। এবার ৫ থেকে ৬ লাখ হলো মাত্র ৫ দিনে! অথচ, রাজ্যে রাজ্যে নিষেধাজ্ঞার বহর দিন দিন শিথিল করা হচ্ছে!

সরকারি অভিমত, করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা প্রতি দিন বাড়ছে। সেই কারণে সংক্রমিতের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মনে করে, এই বৃদ্ধি বিরাট কিছু নয়। গোষ্ঠী সংক্রমণেরও কোনো প্রমান এখনো নেই। মন্ত্রণালয়ের কর্তারা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যুর অনুপাত উদ্বেগজনক নয়। দেশে মোট মারা গেছেন ১৭ হাজার ৮৩৪ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬০ জন। এটা স্বস্তিদায়ক বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ধারণা।

কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বেশি চিন্তা মহারাষ্ট্রকে নিয়ে। এই রাজ্যে মোট সংক্রমিত ১ লাখ ৮০ হাজার ২৯৮ জন। মারা গেছেন ৮ হাজারের বেশি। রাজধানী দিল্লিতে মৃত ২ হাজার ৮০৩। গুজরাটে এক হাজার ৮৬৭। তামিলনাড়ুতে এক হাজার ২৬৪। সংক্রমণের দিক থেকে তামিলনাড়ু (৯৪ হাজার ৪৯) দ্বিতীয়।

করোনার জন্য দেশ ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও সংসদের অধিবেশন বন্ধই রয়েছে। বর্ষাকালীন অধিবেশন ডাকা হচ্ছে না। বিরোধীদের দাবি সত্ত্বেও মন্ত্রিসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর ভার্চুয়াল বৈঠকও ডাকা হচ্ছে না। কোনো আদালতে স্বাভাবিকতা ফেরেনি। সুপ্রিম কোর্টে কাশ্মীরের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মামলা ১০ মাস ধরে ঝুলে রয়েছে। শোনা হচ্ছে না সিএএ ও এনআরসি সংক্রান্ত মামলাও। এই অবস্থায় চলে আসছে বিহারের নির্বাচন। চলতি বছরের অক্টোবরে এই ভোট হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সেই ভোটে যাঁরা করোনায় আক্রান্ত, যাঁদের শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা গেছে এবং যাঁদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, তাঁরা সবাই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন