default-image

মা-বাবার বিচ্ছেদ হচ্ছে, এমন মুহূর্তে সন্তানের মুষড়ে পড়াই স্বাভাবিক। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ধনাঢ্য এক ব্যক্তির সন্তান এমন মুহূর্তে সম্পদ লুকানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাও আবার মায়ের কাছ থেকে বাবার সম্পদ লুকাতে তাঁর এত তৎপরতা। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। এরপর গত বুধবার আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ওই নারীকে তাঁর প্রাপ্য সম্পদ বুঝিয়ে দিতে হবে। বিচারক আরও মন্তব্য করেছেন, পরিবারটি তাঁর আদালতে হাজির হওয়া সবচেয়ে অসুখী পরিবার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজারবাইজানের বংশোদ্ভূত ফরখাদ আখমেদভ তেল ও গ্যাস ব্যবসায় প্রচুর সম্পদ অর্জনের পর রাশিয়ার সিনেটর নির্বাচিত হন। তিনি এখন ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের সম্পদের মালিক। ২০১৬ সালে স্ত্রী তাতিয়ানা আখমেদভার বিচ্ছেদ হয় তাঁর। ওই সময় যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, বিচ্ছেদের পর ফরখাদের সম্পদের ৪১ দশমিক ৫ শতাংশের মালিকানা যাবে তাতিয়ানার কাছে।

কিন্তু পরে তাতিয়ানা অভিযোগ করেন, তাঁর সাবেক স্বামী ৬৫ বছর বয়সী ফরখাদ তাঁদের ২৭ বছর বয়সী সন্তান তেমুর আখমেদভের সহযোগিতায় কিছু সম্পদ লুকিয়েছেন। ওই নারী দাবি করেন, তিনি ফরখাদের কাছে আরও সাত কোটি ইউরো পাবেন।

বিজ্ঞাপন

তবে এই দম্পতির সন্তান তেমুর লন্ডনে হাইকোর্টের ফ্যামিলি ডিভিশনে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। কাজেই তাঁর মায়ের আবেদন যেন খারিজ করে দেওয়া হয়। কিন্তু আদালতের বিচারক গাইনেথ নোলেসের মন এসব কথায় ভেজেনি। তিনি তাতিয়ানার পক্ষে রায় দেন।

আদালতের রায়ের পর লন্ডনের বাসিন্দা রুশ নাগরিক তাতিয়ানা আখমেদভা এক বিবৃতিতে বলেন, আদালতের এই রায় বুঝিয়ে দিয়েছে, ফরখাদকে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।

রায়ে লন্ডন হাইকোর্টের বিচারক গাইনেথ নোলেস রুশ উপন্যাস আনা কারেনিনা থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সব সুখী পরিবারই এক রকম। তবে সব অসুখী পরিবার নিজেদের মতো করেই অসুখী।’ বিচারক আরও লেখেন, ‘তলস্তয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েই বলছি, আমার আদালতে হাজির হওয়া সবচেয়ে অসুখী পরিবার হলো আখমেদভ পরিবার।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন