সিএএ-এনআরসির জন্য ভারত ক্রমেই বন্ধু হারাচ্ছে: শিবশঙ্কর

ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন। ছবি: রয়টার্স
ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন। ছবি: রয়টার্স

শুধু অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ নয়, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও এনআরসির জন্য গোটা পৃথিবীতে ভারত ক্রমেই তার বন্ধুদের হারাতে চলেছে। একঘরে হয়ে যাচ্ছে। ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন এই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়ার এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘সিএএ এবং এনআরসি ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয় হলেও আন্তর্জাতিক দুনিয়া এই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করছে না। বরং ভারত একঘরে হচ্ছে। বন্ধু হারাচ্ছে। বিরুদ্ধমত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার সিএএকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করে। তারা কাশ্মীরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। ৪০ বছর পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করছে। সমালোচনার সুর শোনা গেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের কণ্ঠে। ভারত আন্তর্জাতিক সমর্থনের যে দাবি করছে তা কিছু স্বৈরতান্ত্রিক অথবা দক্ষিণপন্থী রাষ্ট্রের।’ শিবশঙ্কর বলেন, ‘সরকারের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট তো করছেই, পাকিস্তানের সঙ্গেও ভারতকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। বহির্বিশ্ব এখন মনে করছে পাকিস্তানের মতো ভারতও একটা ধর্মপ্রধান রাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী দেশের মতোই অসহিষ্ণু। এই উপমহাদেশে আদর্শ দেশ হিসেবে ভারতের যে অধিষ্ঠান ছিল, যে উদাহরণ ছিল, তা হারাতে চলেছে।’

>

ভারতের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন এই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

আলোচনা সভার আয়োজক ছিল ‘কনস্টিটিউশনাল কনডাক্ট গ্রুপ’ ও ‘কারবাঁ ই মোহাব্বত’ নামে দুটি সংগঠন। দেব মুখোপাধ্যায়, নভশরন সিং, হর্ষ মান্দের, নীরজা জায়াল, নীতিন দেশাই, গৌতম ভাটিয়া, নাজিব জঙ্গ, জোয়া হাসানের মতো সাবেক কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও লেখকেরা আলোচনা সভায় যোগ দেন।

বাংলাদেশ বন্ধুদেশ হিসেবে স্বীকৃত। এই আইন ও উদ্যোগের কারণে সেই দেশেও ভারতের ভাবমূর্তি মলিন হয়েছে। আলোচনা সভায় সেই প্রসঙ্গ ওঠে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের এক মন্তব্য ‘ওরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে, করুক গে’ প্রসঙ্গে শিবশঙ্কর বলেন, ‘এটাই তো বিস্ময়ের! বাংলাদেশের মতো বন্ধুদেশও এসব কারণে হতবাক। আমরা কি এটাই চাই? আমাদের বন্ধুদেশ যদি আমাদের সম্পর্কে এমন ভাবে, তাহলে আমাদের প্রতিপক্ষরা কী ভাববে, সেটা আমরা ভেবে দেখেছি কি?’

সাবেক কূটনীতিক দেব মুখোপাধ্যায় দেশব্যাপী এনআরসির লোকশক্তি ও অর্থ অপচয়ের দিকটি তুলে ধরেন। সিএএ কেন ‘অসাংবিধানিক’—আইনজীবী গৌতম ভাটিয়া তা ব্যাখ্যা করেন। সরকারের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নীতিন দেশাই বলেন, অধিকাংশ দেশ যখন শরণার্থীদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখতে প্রস্তুত, ভারত তখন উল্টো পথের যাত্রী হতে চাইছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোয়া হাসান বলেন, অধিকাংশই অর্থনৈতিক কারণে দেশত্যাগ করেন। সরকার কী করে এই সিদ্ধান্তে এল যে যাঁরাই চলে এসেছেন, তাঁরা ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে দেশত্যাগ করেছেন তা বোধগম্য নয়।