বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চীনের সংসদে ২৩ অক্টোবর নতুন এই স্থলসীমান্ত আইন পাস করা হয়। চীনের এই নতুন সীমান্ত আইন চালু হবে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি। নতুন আইনের উদ্দেশ্য স্থলসীমান্তের সুরক্ষা। এই আইন অনুযায়ী চীনের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি শত্রুর মোকাবিলায় স্থানীয় অসামরিক বাসিন্দাদের প্রথম ঢাল হিসেবে উপযুক্তভাবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারবে। সেই লক্ষ্যে এসব অঞ্চলে আরও অনেক সীমান্ত শহর গড়ে তোলা যাবে। ভারত এতে আপত্তি জানিয়েছে।

শুধু তিব্বতেই চীন ইতিমধ্যে ৬০০-র বেশি সীমান্ত শহর তৈরি করেছে বলে ভারতের দাবি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে এক বিবৃতিতে জানান, নতুন আইন প্রণয়নের এই সিদ্ধান্ত সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সীমান্ত নিয়েও অন্য প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত আশা করে এই আইনের আড়ালে চীন এমন কিছু করবে না, যা চীন-ভারত সীমান্ত অবস্থান একতরফাভাবে বদলে দেয়।

চীন-ভারত সীমান্ত সমস্যা বহু ক্ষেত্রে এখনো অমীমাংসিত। ২০২০ সালের এপ্রিলে পূর্ব লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়ে। গলওয়ানে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষও ঘটে। নিহত হন দুই দেশের সেনারা। সেই থেকে দুই বাহিনীর মধ্যে ১৩টি বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সব বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো যায়নি।

সীমান্ত স্থিতিশীল ও শান্ত রাখতে ভারত ও চীনের মধ্যে বহু বোঝাপড়া রয়েছে। দুই পক্ষই তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন আইনের রূপায়ণ একতরফাভাবে সেই সব ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলবে।

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার শান্তি ও সুস্থিতি নষ্ট হবে। বিবৃতিতে এ কথাও বলা হয়, এই আইন ১৯৬৩ সালের তথাকথিত চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে বৈধতা দিতে পারে না। ভারত বরাবর বলে আসছে, ওই চুক্তি বেআইনি ও অকার্যকর। ওই চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চীনকে দেয়, ভারত যে এলাকাকে তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে মনে করে।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, চীনের এই নতুন আইন ভারত-চীন সীমান্ত বিরোধ আরও বাড়িয়ে দেবে। এই আইনকে চীনের আগ্রাসী মানসিকতার ফসল বলেও বর্ণনা করা হচ্ছে। নতুন আইনের বলে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের প্রথম দিনটি থেকেই চীনের সীমান্তের যাবতীয় নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বর্তাবে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ও পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্সের ওপর। এ ছাড়া সীমান্ত বরাবর পরিকাঠামো উন্নয়ন ও পরিকাঠামো বৃদ্ধির ঢালাও সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে এয়ারবেস, রেললাইন নির্মাণও। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, পার্লামেন্ট সদস্যরা একমত হয়ে এই নতুন আইনে অনুমোদন দিয়েছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন