গতকাল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রশান্ত। বৈঠকে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের অপর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, প্রশান্ত নিজেই এদিন কংগ্রেস নেতাদের সামনে দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভোটের মাঠে দলটির কৌশল কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়েও একটি রোডম্যাপের কথা কংগ্রেস নেতাদের বলেছেন তিনি। প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৪ আসনের মধ্যে ৩৭০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিতে হবে কংগ্রেসকে। তবে রাজ্যবিশেষে বদলে ফেলতে হবে পরিকল্পনা। উত্তর প্রদেশ, ওডিশা ও বিহারের মতো রাজ্যে লড়াইয়ে কংগ্রেসের জোর কম, সেসব রাজ্যে শক্তি বাড়াতে দলকে একা লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশান্ত। আবার পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে জোটের ভিত্তিতে সাজবে রণকৌশল। প্রশান্তের এসব পরামর্শ নাকি মনে ধরেছে রাহুল গান্ধীর।

default-image

প্রশান্ত কিশোরের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। সেই কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রশান্ত কিশোরের যোগদানের দিনক্ষণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রগুলো দাবি। সব মিলিয়ে গতকালের বৈঠকের পর প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসে যোগ দেওয়া নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী কংগ্রেসের নেতারা।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্রশান্ত কিশোর ২০২৪ সালের নির্বাচনী কৌশলের জন্য একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা দিয়েছেন। প্রশান্ত কিশোরের যাবতীয় প্রস্তাব খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। দলটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

প্রশান্ত কিশোরের কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে বেণুগোপাল সাংবাদিকদের বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যাপারে সবকিছু জানা যাবে।
তবে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের কাজ করা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার জল্পনা হয়েছিল। বৈঠকও হয়েছিল; যদিও পাকাপাকি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ভোটকুশলী। কংগ্রেসও এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু খোলসা করেনি। তবে কংগ্রেস শিবিরের একাংশের মতে, এবারের বৈঠক যথেষ্ট সম্ভাবনাময়।

অনেকে বলছেন, কংগ্রেসের সমস্যা অনেকটাই ধরে ফেলেছেন প্রশান্ত কিশোর। এ জন্য তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। জাতীয়তাবাদ ও পরিবারতন্ত্র নিয়েও কথা বলেছেন। নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে লড়াইয়ে কীভাবে বিজেপি এগিয়ে যাচ্ছে, সে কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এখানে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন ও কতটা, সেটাও জানিয়েছেন তিনি।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন