বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যদিও সৌরভ বারবার বলে এসেছেন, অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর ছেলে জয় শাহ বিসিসিআইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক। এ সম্পর্কের কারণে সৌরভের বাড়িতে নৈশভোজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন অমিত শাহ। এ প্রেক্ষাপটে অমিত শাহের সম্মানে সৌরভ নৈশভোজের আয়োজন করেন।

সৌরভ বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা তাঁর কাছের মানুষ। তাঁর সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। তিনিই তাঁকে বলেছিলেন অমিত শাহকে যেন বাংলার গর্ব রসগোল্লা ও দই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। তিনি অমিত শাহের নৈশভোজে রসগোল্লা ও দইয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। অমিত শাহ মনভরে বাংলার নিরামিষ খাবার খেয়েছেন। খেয়েছেন রসগোল্লা ও দই। খেয়ে তিনি তৃপ্ত হয়েছেন।

নৈশভোজের পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডোনা বলেন, ‘সৌরভ রাজনীতিতে আসবে কি না জানি না। তবে এলে তিনি ভালোই করবেন।’

গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগেও ডোনা একই মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সৌরভ রাজনীতিতে এলে টপে থাকবেন।’

তৃণমূলের কতিপয় নেতা নৈশভোজের বিষয়টি মানতে পারছেন না। হুগলির বলাগড়ের তৃণমূলের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী গতকাল শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, সৌরভ তো আলালের ঘরের দুলাল। সৌরভকে নিয়ে তাঁর কোনো দিন উন্মাদনা ছিল না। তিনি ব্যাট দিয়ে ভালো বল ঠুকতে পারেন। তা দিয়ে আর যা-ই হোক না কেন, দেশ-জাতি-মানুষের কোনো মঙ্গল হয় না। তিনি পারেন শুধু কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিতে। তাই সৌরভকে নিয়ে তাঁর কোনো আবেগ ছিল না।

বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী আরও বলেন, আজকে সৌরভ যখন এক চরম বাঙালিবিদ্বেষী; বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিরোধী; বাংলা ভাগের চক্রান্তকারীকে আদর-আপ্যায়ন করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে করান ভূরিভোজ; তখন মনে হয়, যারা তাঁকে বাঙালির আইকন বলে ধেই ধেই করে নাচে, তাদের দেখে সত্যিই করুণা হয় তাঁর।

তবে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর এ মন্তব্যের সঙ্গে একমত হননি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘সৌরভ বাংলার গর্ব। সৌরভ প্রায়ই দিদির সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন। যে কেউ আমন্ত্রণ জানাতেই পারে। আপ্যায়ন করাতে পারেন। এটা কোনো বড় কথা নয়। বাড়িতে এলে তো আপ্যায়ন করাতেই হয়। এটা তো বাঙালির ঐতিহ্য।’

সৌরভের বাসভবনে অমিত শাহের নৈশভোজের পর রাজ্যে নতুন এক জল্পনা শুরু হয়েছে। লোকজন বলছেন, রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রার্থীর কিছু আসন শিগগিরই শূন্য হচ্ছে। সেই শূন্য আসনে রাষ্ট্রপতির কোটায় সৌরভ বা ডোনা মনোনয়ন পেতে পারেন।

ভারতের আইনসভার দুটি কক্ষ। উচ্চকক্ষ হলো রাজ্যসভা। নিম্নকক্ষ হলো লোকসভা। রাজ্যসভার আসনসংখ্যা ২৫০। এর মধ্যে ১২টি আসনের প্রার্থী মনোনীত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি ভারতের নামীদামি বিশিষ্টজনের মধ্য থেকে ১২ জন সদস্যকে মনোনয়ন দিয়ে থাকেন।

বিজেপির আমলে এ রাজ্যের দুজন রাষ্ট্রপতির কোঠায় সাংসদ হয়েছেন। তাঁদের একজন অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী, অপরজন সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত।

এ ছাড়া কংগ্রেস জামানায় রাষ্ট্রপতির কোটায় রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন