স্বপ্নপূরণ হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মানুষদের। আজ শুক্রবার থেকে চালু হচ্ছে ব্রডগেজ রেল পরিষেবা। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে আগরতলা থেকে শিলচর পর্যন্ত এই ট্রেন চলবে।

ভারতের জাতীয় সংসদের সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, ভবিষ্যতে দিল্লি ও কলকাতার সঙ্গে সরাসরি রেলসংযোগ স্থাপিত হবে। ভারতীয় সময় সকাল নয়টার দিকে আসামের শিলচর রেলস্টেশন থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার উদ্দেশে রওনা দেয়। যাত্রীবাহী বিশেষ ওই ট্রেনটিতে ১০টি সাধারণ ও দুটি পার্সেল কাম লাগেজ বগি রয়েছে।

ভারতের উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক পি জে শর্মা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ট্রেনটি আগরতলা পৌঁছাবে। আগামীকাল শনিবার থেকে প্রতিদিন সকাল নয়টার দিকে আগরতলা ও শিলচর থেকে এই ট্রেনটি ছাড়বে। প্রতিটি স্টেশনেই ট্রেনটি দাঁড়াবে।

ত্রিপুরা থেকে নির্বাচিত ভারতের জাতীয় সংসদের সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, আপাতত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থাকায় রেল মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করছে না। ১৯ মে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হলেই আগরতলায় রেল চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই বিশেষ ট্রেন চলবে।

রেলমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও জানান, ভারতীয় রেল আগরতলার সঙ্গে গোটা দেশের রেলসংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আগ্রহী। তাঁরা সবদিক খতিয়ে দেখছেন। চলতি মাসেই ত্রিপুরাবাসী সুখবর পেতে পারেন।

ট্রেনটি আসামের শিলচর থেকে বদরপুর হয়ে ত্রিপুরায় ঢোকে। ব্রডগেজ লাইন দিয়ে এই রেলের যাত্রা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়।

১৯৯৬-৯৭ ভারতীয় অর্থ বর্ষে এই রেল চলাচলের প্রকল্প মঞ্জুর হলেও ২২৭ কিলোমিটার রেলপথ ব্রডগেজের মাধ্যমে বদরপুর থেকে আগরতলা পৌঁছাতে লেগে যায় ২০ বছর। এর জন্য এনএফ রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খরচ হয় প্রায় আট হাজার কোটি রুপি। হল্ট স্টেশনসহ এই যাত্রাপথে থাকছে ৩১টি রেলস্টেশন। ৪৫১টি সেতু অতিক্রম করতে হবে প্রতিটি ট্রেনকে। এর মধ্যে ৪৪টি বড় সেতুও রয়েছে রেলপথে। দুর্গম পাহাড়ি এই রেলপথে রয়েছে পাঁচটি সুড়ঙ্গ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য ১.৯৬ কিমি।

তবে ভারতের রেল প্রকৌশলীরা এই প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। তাই এই পাহাড়ি পথেও ঘণ্টায় ১০০ কিমি বেগে ট্রেন চলতে পারে।

ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর রেলের প্রকৌশলীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খুব শিগগিরই আগরতলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি বাংলাদেশের আখাউড়ারও রেলসংযোগ স্থাপিত হবে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন