সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের পরিবহন ও ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্রকে কলকাতার আলীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ভারতীয় সময় সকাল সাতটার দিকে কলকাতার পিজি হাসপাতাল (এসএসকেএম) থেকে তাঁকে সেখানে পাঠানো হয়।

১২ ডিসেম্বর ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিবিআই) হাতে গ্রেপ্তার হন মন্ত্রী মদন মিত্র। পরের দিন তাঁকে আলীপুর আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাঁকে তিন দিনের সিবিআই হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তিন দিন পর তাঁকে আবার আদালতে নেওয়া হয়। আদালত মদন মিত্রকে তিন দিনের সিবিআই হেফাজতে দেন। ছয় দিনের সিবিআই হেফাজত শেষে মন্ত্রী মদন মিত্রকে ১৯ ডিসেম্বর আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়ে কলকাতার আলীপুরের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

কারাগারে পৌঁছানোর পর মন্ত্রী বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কার্ডিওলজি বিভাগের বদলে তাঁকে রাখা হয় ভিভিআইপিদের জন্য তৈরি উডবার্ন ওয়ার্ডে। সেখানেই মন্ত্রীর চিকিৎসা চলে। সেখানে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা হয়। কিন্তু কোনো পরীক্ষায় মন্ত্রীর রোগ ধরা পড়েনি। এ সময় বিরোধী দল মন্ত্রীকে অবিলম্বে কারাগারে ফেরত পাঠানোর দাবি জানায়।

কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান হুমকি দিয়ে বলেন, সুস্থ মন্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রাজনীতি শুরু করেছেন। তিনি এই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করবেন বলে জানান। এরপরই মন্ত্রীর জন্য গড়া মেডিকেল বোর্ড গত শুক্রবার বৈঠকে বসে। তখনই সিদ্ধান্ত হয় শনিবারই ছেড়ে দেওয়া হবে মন্ত্রীকে। হাসপাতাল থেকে আরও জানানো হয়, পরীক্ষার পরও মন্ত্রীর দেহে কোনো রোগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাঁকে আর হাসপাতালে রাখার প্রয়োজন নেই।

এ ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীকে আলীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়। কারাগার কর্তৃপক্ষও তাঁকে কারাগারে রাখার প্রস্তুতি নেয়। সন্ধ্যায় মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন, জ্যোতিষীর কথামতো তিনি রাত তিনটার পর হাসপাতাল ছাড়বেন। সেই মতো আজ রোববার ভোর সাতটার দিকে মন্ত্রী মদন মিত্রকে আলীপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন