হেট স্পিচের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া নিয়ম স্মরণ করিয়ে বিচারপতিরা উত্তরাখন্ড সরকারকে সতর্ক করে জানান, ধর্ম সংসদে ঘৃণা ভাষণের কোনো ঘটনা ঘটলে রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও অন্য পদস্থ কর্তাদের দায়ী করা হবে। তাঁদের কোর্টে ডেকে পাঠানো হবে। বিচারপতিরা বলেন, রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে যে ধর্ম সংসদে অবাঞ্ছিত কিছু ঘটবে না।

পৃথক এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট হিমাচল প্রদেশে কিছুদিন আগে আয়োজিত এক ধর্ম সংসদে দেওয়া হেট স্পিচ নিয়ে রাজ্য সরকারকে তিরস্কার করেন। চলতি মাসের গোড়ায় ওই ধর্ম সংসদ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের হিংসাত্মক হওয়ার হাঁক পাড়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট বলেন, রাজ্য সরকার ঘৃণা ভাষণ রুখতে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা আগামী ৭ মের মধ্যে জানাতে হবে। ৯ মে ওই মামলার পরবর্তী শুনানি।

হিমাচল প্রদেশ সরকারকে তিরস্কার করে আদালত বলেন, এমন আয়োজন হুটহাট করা যায় না। আগে থেকে ঘোষণা করে এই ধরনের সম্মেলনের দিন ঠিক করা হয়। সরকার তবু কেন ঘৃণা ভাষণ রুখতে ব্যর্থ? বিশেষ করে এ–সংক্রান্ত গাইডলাইন যখন সুপ্রিম কোর্ট আগেই বেঁধে দিয়েছেন?

উত্তরাখন্ড ধর্ম সংসদ মামলায় আবেদনকারীদের আইনজীবী ছিলেন কপিল সিব্বাল। রাজ্য সরকারের আইনজীবী আদালতকে বলেন, কপিল সিব্বাল যাঁদের হয়ে ধর্ম সংসদে হেট স্পিচের বিরোধিতা করছেন, সেই সম্প্রদায়ও এমন ধরনের ঘৃণা ভাষণ দিয়ে চলেছে। বিচারপতি খানউইলকর এ মন্তব্যের জন্য রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে তিরস্কার করে বলেন, আদালতে এ ধরনের যুক্তি অচল।

হিন্দু ধর্ম সংসদ থেকে দেওয়া ঘৃণা ভাষণের মাত্রা ইদানীং বেড়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে উত্তরাখন্ডের হরিদ্বারে তিন দিনের ধর্ম সংসদে একের পর এক গেরুয়াধারীর ভাষণে ঘৃণার বন্যা বয়েছিল। সেখানে মুসলমানদের গণহত্যার ডাকও দেওয়া হয়েছিল। সমালোচনার মুখে পুলিশ পরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু জামিনের পর এক হিন্দুধর্মীয় নেতা হিমাচল প্রদেশের উনায় বলেন, মুসলমানদের মারতে হিন্দুদের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া উচিত। আরেক ধর্মীয় নেতা মুসলমান নারীদের ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছিলেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন