default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নন্দীগ্রামে ১৪ বছর আগে জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের সময় খুন, অপহরণ ও হামলার অভিযোগে ১৩টি মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫০ নেতা–কর্মীকে। এর মধ্যে নয়টি মামলা গত বছর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব মামলা এখন আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। এতে শঙ্কায় পড়েছে তৃণমূল। মামলার আসামিরা রয়েছেন গ্রেপ্তার আতঙ্কে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একটি রসায়ন শিল্পাঞ্চল গড়ার জন্য নন্দীগ্রাম ও পাশের খেজুরির ২৭ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। এর বিরুদ্ধে সে সময় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।

পাশাপাশি চলতে থাকে হুগলির সিঙ্গুরে টাটাকে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য বামফ্রন্ট সরকারের লিজ দেওয়া ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন। আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। একপর্যায়ে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায় পুলিশ। এতে নন্দীগ্রামের ১৪ জন গ্রামবাসী নিহত হন। এরপর খুন, অপহরণ ও হামলার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সূত্র আরও জানায়, পুলিশের করা ওই মামলাগুলো তদন্ত করে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শেখ আবু সুফিয়ান, নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেতা আবু তাহের, শেখ শাহাবুদ্দিন, স্বদেশ দাস, অশোক করণ, মিলন প্রধান প্রমূখ। অভিযোগপত্র দাখিলের দিন আসামিদের কেউ হাজির না থাকায় তাঁদের পলাতক ঘোষণা করেছিলেন হলদিয়া আদালত। এরপর গত বছরের জুনে রাজ্য সরকার হলদিয়া মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালত থেকে নয়টি মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।

দলীয় ও আদালত সূত্র বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে লড়বেন। নির্বাচনী এই লড়াই জোরালো করতেই রাজ্য সরকার মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। মামলাটি করেন রাজ্যের বিজেপি আইনজীবী সেলের সদস্য নীলাঞ্জন অধিকারী। মামলার প্রথম শুনানি হয় ৩ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবি রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কঠোর ভাষায় বলেন, ‘ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা গুরুতর অপরাধ।’

আদালত সূত্র বলেছে, মামলার দ্বিতীয় শুনানির দিন ৫ মার্চ রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট প্রত্যাহার করা মামলাগুলো আবারও চালুর নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর গতকাল সোমবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালত নতুন এক আদেশে বলেন, ওই মামলাগুলো যে পর্যায় থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল, ঠিক ওই পর্যায় থেকেই আবার চালু হবে। আদালত একই সঙ্গে নির্দেশ দেন, ওই মামলাগুলোয় যাঁরা পলাতক ছিলেন, তাঁদের আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে জামিন নিতে হবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যাঁরা জামিন নিয়েছিলেন, তাঁদেরও আবার জামিন নিতে হবে।

হলদিয়া আদালতের ওই নির্দেশের পর শঙ্কায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্র বলেছে, মামলার আসামিরা আশঙ্কা করছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগমুহূর্তে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন