default-image

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) গবেষকেরা করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য নতুন একটি যন্ত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শনিবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

গবেষকদের দাবি, নতুন যন্ত্রে এক ঘণ্টায় মিলবে করোনার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল। একসঙ্গে তিনটি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। ঘণ্টায় করা যেতে পারে ১০টি পরীক্ষা। প্রতিটি পরীক্ষার খরচ পড়বে মাত্র ৪০০ রুপি। যন্ত্রের দাম পড়বে মাত্র দুই হাজার রুপি।

গবেষকদের ভাষ্য, সহজে বহনযোগ্য (পোর্টেবল) এই যন্ত্র ব্যবহারও অত্যন্ত সহজ। যেকেউ এই যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন। এ জন্য কোনো টেকনিশিয়ান রাখার প্রয়োজন হবে না। রিপোর্টও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো যাবে। বিশ্বের এটিই হবে করোনা নমুনা পরীক্ষা সবচেয়ে ছোট যন্ত্র।

গতকাল দুপুরে খড়গপুর আইআইটি চত্বরে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক বীরেন্দ্র কুমার তেওয়ারির উপস্থিতিতে গবেষকেরা যন্ত্রটির উদ্বোধন করেন। তাঁরা বলেন, এটি ব্যবহারে কোনো খরচ নেই।

আইআইটির স্কুল অব বায়োসায়েন্সের শিক্ষক জীবাণু গবেষক অধ্যাপক অরিন্দম মণ্ডল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী যন্ত্রটি তৈরি করেছেন বলে জানানো হয়।

অরিন্দম মণ্ডল বলেন, মাত্র এক বর্গফুট মাপের যন্ত্রটি এখন বাজারে আসার অপেক্ষায়। অনুমতি মিললে যন্ত্রটি বাজারে মিলবে। বাজারে যেখানে একটি আরটি পিসিআর যন্ত্র কিনতে খরচ হয় ১৫ লাখ রুপি, সেখানে এই যন্ত্রটি মিলবে মাত্র দুই হাজার রুপিতে। দেশের যেকোনো প্রান্তে ব্যাটারি, বিদ্যুৎ বা সৌরশক্তিতে যন্ত্রটি চালানো যাবে।

অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, এই যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের কোনো খরচ নেই। সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য এসি ঘরের প্রয়োজন নেই। চালানোর জন্য দক্ষ লোকরও প্রয়োজন নেই। একজন সাধারণ মানুষ যন্ত্রটির প্রয়োগ কৌশল শিখে তা চালাতে পারবে।

default-image

আইআইটির পরিচালক অধ্যাপক বীরেন্দ্র নাথ তেওয়ারি বলেন, ‘কোভিড পরীক্ষার এই যন্ত্রের আবিষ্কার প্রতিষ্ঠানের (আইআইটি) জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে লেখা থাকবে। আমরা যেকোনো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই যন্ত্র বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত আছি। সরকারি অনুমোদন মিললে এই যন্ত্রকে আমরা বাজারজাত করতে সক্ষম হব।’

করোনায় মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গে নয়া রেকর্ড
পশ্চিমবঙ্গে করোনার মৃত্যুর ইতিহাসে গতকাল এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। পশ্চিমবঙ্গে করোনার প্রথম সংক্রমণ ঘটে এ বছরের ১৭ মার্চ। সেই থেকে দীর্ঘ ৪ মাস ৯ দিনের মধ্যে সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গতকাল।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়, যা এযাবৎকালের সর্বাধিক। এই মৃত্যুর মধ্যে কলকাতার রয়েছে ১১ জন। এদিন পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমিত হয় ২ হাজার ৪০৪ জন।

সব মিলিয়ে রাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩৭৭ জন। মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২।

গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ১২৫ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৫৪ জন। সুস্থতার হার ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। সংক্রমণের হার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ হাজার ৬২৮ জনের। মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার ১৪০ জনের।

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুহীন ছিল ঝাড়গ্রাম জেলা।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন