বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে উপনির্বাচন নিয়ে কেবল ভবানীপুর আসনে দ্রুত নির্বাচন করার আবেদন করায় রাজ্যের মুখ্য সচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদিরকে ভর্ৎসনা করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, এই রাজ্যের পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন করার কথা থাকলেও মুখ্য সচিব কেবল মমতার আসনের উপনির্বাচন করার জন্য চিঠি লিখেছিলেন নির্বাচন কমিশনে।

মুখ্য সচিব নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখে ভুল করেছেন। অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি একজনের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেন না। এ সময় আদালত প্রশ্ন রাখেন, একজনের স্বার্থ রক্ষার জন্য এত খরচ কে বহন করবেন?
এ আসনে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী প্রিয়াংকা টিবরেওয়াল। এই আসনে এবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হওয়ার পর মমতাকে ভবানীপুর আসন থেকে জেতানোর লক্ষ্যে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য হয়। সেই আসনের উপনির্বাচনে এবার লড়ছেন মমতা। এখানে তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থী থাকলেও সিপিএম এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে শ্রীজীব বিশ্বাসকে। এই তিন প্রার্থীর মধ্যে এবার লড়াই হবে।

আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিন প্রার্থীই আশাবাদী। তবে তৃণমূল মনে করছে, নিশ্চিত বিপুল ভোটে জিতবেন মমতা। অন্তত এক লাখ ভোটের ব্যবধানে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল এবার ভবানীপুরে প্রচার বাড়িয়েছে। নেমে পড়েছেন রাজ্যের তৃণমূল নেতা আর মন্ত্রীরা। যদিও বিজেপি প্রার্থী টিবরেওয়াল বলেছেন, অত সহজ হবে না মমতার জেতা। নন্দীগ্রামে তো হেরে গেছেন। এবার ভবানীপুরে হারলে অবাক হওয়ার কারণ থাকবে না।

হাইকোর্টের রায়ের পর বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, পাঁচটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কেন মাত্র একটি আসনে উপনির্বাচন হবে? ওই আসনের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই কী? তিনি আরও বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী, পক্ষপাতিত্বের।

এদিকে আজ ভারতের নির্বাচন কমিশনে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে ভবানীপুর আসনের নির্বাচনে ৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগের আবেদন করেছে। আবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের দিনে বুথে কোনো রাজনৈতিক নেতার ঢোকা বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনী কাজে এ রাজ্যের কোনো সরকারি কর্মীকে সম্পৃক্ত করা যাবে না। নির্বাচনের দিন এলাকাজুড়ে জারি করতে হবে ১৪৪ ধারা। নির্বাচনী কাজ তদারকির জন্য মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করতে হবে। বিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব, অনুরাগ ঠাকুর প্রমুখ।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দিয়েছেন, ভবানীপুর আসনে প্রিয়াংকা টিবরেওয়াল মমতাকে হারাতে পারলে তাঁকেই বসানো হবে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার আসনে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন