ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার মিল পারার বাসিন্দা শিলা রানী। প্রকাশের পর তিনি ভারতের গণমাথ্যম ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, প্রথম ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। ওই বছর তিনি পাস করতে ব্যর্থ হন। যদিও ওই সময় তিনি আগরতলা করপোরেশনে চাকরি করতেন।

শিলা রানী বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। ১৯৯৪ সালের পর আমি একাধিকার চেষ্টা করেছি। তবে প্রতিবারই বিভিন্ন ধরেনর প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে।’

এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কেমন ছিল, তা নিয়েও কথা বলেছেন শিলা রানী। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের ব্যর্থ হওয়ার চার বছর পর আবারও পরীক্ষার টেবিলে বসেন তিনি। কিন্তু সেই বছরও ব্যর্থ হন। সেই বছর তাঁর বাবা মারা যান। এরপর একটা দীর্ঘ বিরতি দিয়েছিলেন। শিলা রানী জানান, এরপর ২০১১ সালে ফরম পূরণ করেন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিধি বাম। এর পরের বছরের শুরুতেই তাঁর স্বামী মারা যান। এ কারণে আর পরীক্ষা দেওয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর।

শিলা রানীর ওপর বেশ দায়িত্বও ছিল। কারণ, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। সংসারে যেমন দুই মেয়ে আছেন, তেমনি আছেন তাঁর মা। এ কারণে এতগুলো মানুষের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনের পর পড়াশোনা খুব সহজ ছিল না।

কিন্তু ইচ্ছেশক্তির কাছে এসব কোনো বাধা নয়, তা প্রমাণ করলেন শিলা রানী। প্রায় তিন দশক পর তাঁর দুই মেয়ের উৎসাহে আবারও বসেন পরীক্ষায়। এবার আর হার নয়। জিতে গেলেন শিলা রানী। আগরতলার অভয়নগর স্মৃতি বিদ্যালয়ের কৃতকার্য শিক্ষার্থী হিসেবে নাম লেখালেন তিনি।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন