default-image

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ভারতে ক্ষমতাসীন দলের আশপাশের লোক যখন মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত করেন, তখন সেটা আসলে একটি জনগোষ্ঠীকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রেও কৃষ্ণাঙ্গ আর মেক্সিকানদের মধ্যে একই ভাবে এই ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা হয়। এটা আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। কাম্য নয়। মুসলিমরা ভারতকে দখল করে বসবে, এমন ভয়ের কোনো ভিত্তি নেই। সংখ্যালঘুদের কথাও শুনতে হবে। আর এখানে অনুপ্রবেশের বিষয়টি এমন নয় যে মহামারির আকার নিয়েছে।’

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে ‘জয়পুর লিটারেচর ফেস্টিভ্যালে’ যোগ দিয়ে গতকাল সোমবার কলকাতায় আসেন অভিজিৎ। কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত ‘কলকাতা লিটারেচর ফেস্টিভ্যালে’ যোগ দেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অভিজিৎ বলেন, মুষ্টিমেয় জনসংখ্যার হাতে সম্পদের সঞ্চয়ীকরণ ঠেকাতে না পারলে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। বাজেট ঘাটতি নিয়ে মাথা ঘামানোর চেয়ে দরিদ্রের ব্যয় ক্ষমতা বাড়ানো বেশি জরুরি। পরিকাঠামোয় উন্নত এবং ব্যাংককে চাঙা করতে সরকারকে টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

ভারতের অর্থনীতি মন্দায় কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘মন্দায় চলে গেছে বলে আমি জানি, তবে এমন দাবি করতে পারি না। কিন্তু যদি প্রশ্ন করেন, মন্দা শুরু হয়েছে, এমনকি সম্ভব? তাহলে আমি বলব—হ্যাঁ।’

অনুষ্ঠানে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘গুড ইকোনমিকস ফর হার্ড টাইমস’ গ্রন্থের পেপার ব্যাক সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ডি-লিট উপাধি গ্রহণ করবেন। এই উপলক্ষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজন করেছে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের।

এর আগে গত রোববার জয়পুরে অভিজিৎ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী পক্ষের প্রয়োজন। শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ ছাড়া দেশের গণতন্ত্র সুসংহত হয় না। তাই গণতন্ত্রে ভারসাম্য রাখতে সরকারেরও উচিত বিরোধী শক্তিকে মর্যাদা দেওয়া।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0