default-image

ভারতের সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন। তাঁর শপথ গ্রহণের সময় কংগ্রেসের সদস্যরা ‘শেম শেম’ বলে স্লোগান দেন। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

অবসর নেওয়ার পর রঞ্জন গগৈয়ের রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার বিষয়টিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করছেন সমালোচকেরা।

রঞ্জন গগৈ সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় প্রধান বিচারপতি, যিনি অবসরের পর রাজ্যসভার সদস্য হলেন। তাঁর আগে রঙ্গনাথ মিশ্র একই কাজ করেন। ১৯৯১ সালে অবসর নেওয়ার সাত বছর পর ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের হয়ে তিনি রাজ্যসভায় আসেন।

রঞ্জন গগৈ অবসর নেওয়ার আট মাস আগে বলেছিলেন, অবসর নেওয়ার পর সরকারি পদে নিয়োগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গায়ে ক্ষত। অথচ অবসর নেওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় তিনি রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় পা রেখে নিজের কথাই বরখেলাপ করলেন।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি রাজ্যসভার সদস্যপদ গ্রহণের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যসভায় তাঁর উপস্থিতি আইনসভার সামনে বিচার বিভাগের দৃষ্টিভঙ্গি, আর বিচার বিভাগের সামনে আইনসভার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের সুযোগ করে দেব।

রঞ্জন গগৈয়ের নিয়োগকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপর মারাত্মক, অভূতপূর্ব ও ক্ষমাহীন আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে কংগ্রেস।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক কয়েকজন বিচারপতিও এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেছেন।

নানা কারণে রঞ্জন গগৈ আলোচিত-সমালোচিত। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে যে চারজন বিচারপতি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, রঞ্জন গগৈ এর অন্যতম। পরে রঞ্জন গগৈ প্রধান বিচারপতি হন।

২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের অফিসের এক নারী কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ আনেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ অভিযোগ তদন্ত করেন। বেকসুর খালাস হন তিনি।

অযোধ্যার বিতর্কিত জমি নিয়ে টানা শুনানির নির্দেশ রঞ্জন গগৈয়ের দেওয়া। বহু বছরের বিবাদের মীমাংসা তিনিই করেছিলেন মন্দিরের পক্ষে রায় দিয়ে।

অসম চুক্তি অনুযায়ী এনআরসি তৈরির নির্দেশ রঞ্জন গগৈয়ের দেওয়া। তাঁরই তত্ত্বাবধানে তাঁর মেয়াদ পূর্তির আগে সেই নির্দেশ কার্যকর করে গেছেন তিনি। রাফাল নিয়ে তাঁর আমলে আনা মামলা তিনিই খারিজ করেছেন।

রঞ্জন গগৈয়ের আমলে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ হয়। তাঁর আমলেই দাখিল হয় কাশ্মীর-সম্পর্কিত একের পর এক মামলা। এসব মামলার কোনো সুরাহা করেননি তিনি।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে রঞ্জন গগৈয়ের নানা পদক্ষেপ বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। এ জন্য বিজেপি তাঁকে রাজ্যসভায় এনে পুরস্কৃত করেছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0