ইসরায়েলের ওই নারীর নাম আয়েলেত বালাবান। নতুন এই পাসপোর্ট প্রসঙ্গে ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কান-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। আয়েলেত বলেন, জন্মস্থানের নতুন নাম দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন।

আয়েলেত বলেন, ‘আমরা ধারণা ছিল, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে এটা করেছে। কারণ আমি গাজা উপত্যকার উদ্বাস্তু ইহুদি মোসাব সম্প্রদায়ের সঙ্গে থাকি।’ তবে সেটি তার জন্মস্থান নয় বলেও জানিয়েছেন এই নারী।

ইসরায়েলের এই নারী বলেন, ‘এই পাসপোর্ট দিয়ে আমি কীভাবে ভ্রমণ করব? এটা আমার ব্যক্তিগত পাসপোর্ট।’

তবে আয়েলেতের এই পাসপোর্ট থেকে এটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ব্রিটিশ সরকার সম্ভবত তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। কারণ দু বছর আগে আয়েলেতের ভাই পাসপোর্ট করেছেন। সেই পাসপোর্টে তার জন্মস্থান জেরুজালেম লেখা আছে। এ ছাড়া আয়েলেত এই বিষয়টি জানতে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একই সঙ্গে জেরুজালেমভিত্তিক ইহুদিদের সংগঠন নাফেশ বি’নাফেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। দুই পক্ষই এখনো কিছু জানায়নি।

পাসপোর্টে কেন এমন তথ্য এল— এটা জানতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন আয়েলেত। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এ ছাড়া ইসরায়েলে যুক্তরাজ্যের দূতাবাসে যোগাযোগ করেন তিনি। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি।

জেরুজালেম নিয়ে সম্প্রতি নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ইসরায়েল। এই কূটনীতির হাতে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বীকৃতিও এসেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য এ নিয়ে এখনো দ্বিধায় রয়েছে। জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েব সাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, জেরুজালেম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

জেরুজালেম প্রসঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান হলো, পশ্চিম জেরুজালেম কার্যত ইসরায়েলের এলাকা। তবে পূর্ব জেরুজালেম ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকা।