বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এভাবেই শনিবার দিনভর ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি নিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ঘটল নানা নাটকীয়তা। যদিও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ, এ অধিবেশনেই অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহা করতে হবে।

বারবার অধিবেশন মুলতবিকে ভোটাভুটির প্রশ্নে সময়ক্ষেপণ বলে অভিযোগ করেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব সতর্ক করে বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, ভোটাভুটি না হলে তা হবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করা। এতে স্পিকারকে তিন বছর জেল খাটতে হবে ও পাঁচ বছরের জন্য তিনি অযোগ্য বিবেচিত হবেন।’ আজকেই (শনিবার) ভোটাভুটির দাবি জানান মরিয়ম।

গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে রায় দেন, ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসতে হবে। সে অনুযায়ী ইমরানের ভাগ্যনির্ধারণী অধিবেশনও বসে সময়মতো। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার আসাদ কায়সার। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় অধিবেশন। তবে প্রথম দফায় মুলতবির আগপর্যন্ত অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না ইমরান খান।

অধিবেশনের কার্যসূচিতে চার নম্বরে রাখা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি। গুরুত্বপূর্ণ এ অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর সব আইনপ্রণেতা অংশ নেন। শুরুতে পিটিআইয়ের (ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) নেতৃত্বাধীন জোটের আইনপ্রণেতাদের কয়েকজনকে দেখা যায়। পরে তাঁদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

নাটকীয়তায় ভরা অধিবেশন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইচ্ছা করেই অধিবেশন বিলম্বিত করা হয়েছে। অধিবেশনে ইমরান খান সরকারের মন্ত্রীরা তাঁদের বক্তব্য দীর্ঘ করার চেষ্টা করেন। অধিবেশনের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে তিন ঘণ্টা বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা পান। তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সময় হট্টগোল শুরু হয়। এ অবস্থায় অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার।

অন্যদিকে এদিন যাতে ভোটাভুটি না হয়—সরকারি দলের এমন ‘কৌশলে’র পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বিরোধীদলীয় নেতা পিএমএল-এন সভাপতি শাহবাজ শরিফের চেম্বারে বৈঠক করেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। পার্লামেন্টের অধিবেশন প্রথম দফা মুলতবির সময় অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। এ সময় স্পিকার আসাদ কায়সারের চেম্বারে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধিদল। দলের সদস্যরা স্পিকারকে জাতীয় পরিষদে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

একপর্যায়ে সরকার ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা একমত হন, কারও বক্তব্যের সময় বিঘ্ন ঘটানো হবে না। বিরোধীদের পক্ষে জমিয়ত-ই-ইসলামের (ফজল) নেতা মাওলানা আসাদ মাহমুদ বলেন, তাঁরা পিটিআইয়ের কোনো আইনপ্রণেতার বক্তব্যে বাধা সৃষ্টি করবেন না। তবে তাঁদের কারও বক্তব্যের সময় এমনটা করা হলে তাঁরা সম্মিলিতভাবে হট্টগোল বাধাবেন।

অন্যদিকে পিএমএল-এন মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, সরকারি দলের কোনো শর্তই তাঁরা মানবেন না। আজকেই অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে হবে।

ভোটাভুটি সামনে রেখে পাকিস্তানের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডন একটি হিসাব প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট দিতে প্রস্তুত ১৭৬ জন আইনপ্রণেতা। আর অনাস্থা পাস হতে দরকার ১৭২ ভোট। ফলে ভোটাভুটিতে ইমরানের পরাজয় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছিল।

যেভাবে সংকটের শুরু

দেশের আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। তবে একে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এতে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান।

এ অবস্থায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীরাও আদালতের দ্বারস্থ হন। এর ওপর টানা পাঁচ দিনের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট আয়োজনের নির্দেশ দেন।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন