রানঝা বলেন, দুবার ‘অসাংবিধানিক’ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আলভিকে জবাবদিহি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সিদ্ধান্ত দুটি হলো—১০ম ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কমিশন (এনএফসি) গঠনে নোটিশ জারি এবং সংসদীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনে (ইসিপি) দুজন সদস্য নিয়োগ।

এই পিএমএল-এন আইনপ্রণেতা বলেন, দেশের কয়েকটি হাইকোর্ট প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সংবিধান লঙ্ঘন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দুটি রুলিংয়ের বিষয়ে পরবর্তী সময় কোনো আপিল না করায় এ রায়ই চূড়ান্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

রানঝা বলেন, ‘অতীতে সংবিধান লঙ্ঘন করেও লোকজন পার পেয়ে যেত। তবে এবার আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এমনটা আর ঘটবে না।’

সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বরত বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার বিরুদ্ধে প্রেসিডেনশিয়াল রেফারেন্স ব্যবহার ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি অবৈধ আখ্যা দিয়ে বাতিল করে দিয়েছিলেন। অভিশংসন নোটিশে এ বিষয়টিও যুক্ত করা হতে পারে বলেও রাজনীতি ও আইনজ্ঞরা বলছেন।

রানঝা বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭ অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার কারণে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা যাবে অথবা সংবিধান লঙ্ঘন ও চরম অসদাচরণের কারণে অভিশংসন করা যাবে।

তিনি বলেন, ‘তাঁর (প্রেসিডেন্ট আলভি) সংবিধান লঙ্ঘনের ইতিহাস আছে। তাই আমরা তার অভিশংসন চাইব।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের দুটি সিদ্ধান্তই ছিল আইন ও সংবিধানবিরোধী।

তবে দৃশ্যত অভিশংসন প্রস্তাবের জন্য সরকারের প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট নেই। জাতীয় পরিষদে ক্ষমতাসীন জোটের ১৭৪টি ভোট আছে। আর সিনেটে প্রায় ৭০টি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ভিন্নমতাবলম্বী ৩৩ জন মিলিয়ে ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭৭টি। কিন্তু ৪২২ আসনের পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করার জন্য প্রয়োজনীয় ২৯৫টি ভোটের চেয়ে তা এখনো ১৮টি কম।
জাতীয় পরিষদে আনা বিরোধী জোটের অনাস্থা ভোটে হেরে ৯ এপ্রিল বিদায় নেয় ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এরপর জাতীয় সরকারের আদলে নতুন সরকার গঠন করে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী হন পিএমএল-এনের সভাপতি শাহবাজ শরিফ। প্রেসিডেন্ট আলভিকে ইমরান খানের অনুগত মনে করা হয়। তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে শপথ পড়ানো থেকেও বিরত ছিলেন।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন