বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফাওয়াদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন। কেউ তাকে পদত্যাগ করতে বলেনি। আর প্রধানমন্ত্রীরও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই।

ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকারের জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএম-পি)। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি এই ঘোষণা দেয় তারা। এই ঘোষণার পর বিরোধীদের পাল্লা ভারী হলো।

এমকিউএম-পির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জানান যে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ইমরান একাধিক বৈঠক করেছেন।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকারকে হুমকি দিয়ে কোনো একটি উৎস থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। এই চিঠির বিষয়ে ফাওয়াদ বলেন, এ ধরনের হুমকি যেকোনো স্বাধীন দেশের কাছে অগ্রহণযোগ্য। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন ইমরান খান। তাঁরা পার্লামেন্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ চিঠির বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেন। তাঁরা এই চিঠির বিস্তারিত বিরোধীদের জানাতে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা বা কর্মকর্তা পাকিস্তান সরকারকে কোনো চিঠি দেয়নি।

২৭ মার্চ পিটিআইয়ের এক সমাবেশে ইমরান অভিযোগ করেন, তাঁর সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টায় বিদেশি শক্তি জড়িত। আর এই কাজে পাকিস্তানেরই কিছু মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী আসাদ উমর অভিযোগ করেন, পিএমএল-এনের সর্বোচ্চ নেতা নওয়াজ শরিফ বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তিনি ইমরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। নওয়াজ লন্ডনে বসে অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৪২টি। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন হবে।

জিও টিভির সবশেষ তথ্যমতে, বিরোধীদের হাতে রয়েছে ১৯৯টি ভোট আর ইমরানের পক্ষে রয়েছে ১৪২ ভোট।

অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগ তুলে জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে বিরোধী দলগুলো। পরে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিষদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবের ওপর আগামী ৩ এপ্রিল ভোটাভুটি হতে পারে।

ইমরান ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাঁর সরকারের মেয়াদ রয়েছে। তবে অনাস্থা ভোটে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁর সরকারের পতন হতে পারে।

পাকিস্তানে স্বাধীনতার পর দেশটির কোনো সরকার তার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ভাগ্যেও তেমনটা ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন