default-image

কোভিড-১৯–এর টিকা কবে বাজারে আসবে কেউ নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। ওষুধ কোম্পানি মডার্না ইনকরপোরেশন এবং ফাইজার ও বায়োএনটেক তাদের টিকার কার্যকারিতার কথা জানিয়েছে। এসব টিকার দাম কেমন হবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে এরই মধ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করেছেন। টিকা সংগ্রহের জন্য এই অগ্রিম অর্থ প্রদানের অনুমতি দিয়েছেন তিনি। টিকা বাজারে এলে সমাজের প্রবীণ নাগরিক, চিকিত্সক এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল হেলস সার্ভিসের উপাচার্য এবং জাতীয় ভ্যাকসিন কমিটির চেয়ারম্যান আসাদ হাফিজ পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনকে গতকাল বুধবার বলেছেন, কোনো সংস্থা ভ্যাকসিনের মূল্য কত হবে সে ঘোষণা দেয়নি। ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। একটি সংস্থাও ভ্যাকসিন বিক্রির অনুমোদন পায়নি। যদিও ফাইজার এবং বায়োএনটেক ঘোষণা দিয়েছে যে তাদের ভ্যাকসিনগুলোর তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ করেনি, তাদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধে ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে তারা (ওষুধ কোম্পানি) তথ্য সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরপরই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেবে। আর কিছু কাজ বাকি আর পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বিজ্ঞাপন
default-image

আসাদ হাফিজ বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ট্রায়ালের পরেই ভ্যাকসিন বিক্রির সম্পূর্ণ অনুমোদন পেতে পারে। ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য আধা ডজন বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে ন্যাশনাল হেলস সার্ভিসের (এনএইচএস) আলাপ–আলোচনা চলছে।

ডনের এক প্রশ্নের জবাবে আসাদ হাফিজ বলেন, ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। তবে তিনি বলেছেন, ভ্যাকসিন পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিশ্বে এই মুহূর্তে কোনো ভ্যাকসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়নি। আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না যে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো এই ভ্যাকসিন তৈরি করছে এবং তাদের এই ভ্যাকসিনটি সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা হবে। আমাদের আশা করা উচিত হবে না যে এটি প্রায় বিনা মূল্যে পাওয়া যাবে।’

ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের উপাচার্য জাভেদ আকরাম বলেন, ‘কোভিড-১৯ টিকা কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় মধ্য আমরা ঢুকে যাব।’ তবে তিনি বলেন, সরকারের উচিত হবে ভ্যাকসিনটি পাকিস্তানের জনগণের পক্ষে কার্যকর হিসেবে প্রমাণের পরই কেনা। সম্ভাবনা আছে যে কোন অঞ্চলের লোকের জন্য ভ্যাকসিন বেশি কার্যকর হবে। অন্য অঞ্চলের জন্য কম কার্যকর হবে। যদি এমন হয় তবে সেভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের দেশেও তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাও হচ্ছে। ৩ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

জাভেদ আকরামের মতে, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, প্রবীণ নাগরিক, ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন পাওয়া উচিত।

এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কোভিড-১৯–এর ভ্যাকসিন পেতে উন্নয়নশীল দেশের সদস্যদের প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ২০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0