বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সামিনা বলেন, আমি আমার চোখের সামনে অনেক মৃত্যু দেখেছি। মনে হচ্ছিল গাড়ির চারপাশ দিয়ে তুষারের চূড়া তৈরি হয়েছে। আমি কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। সামিনা আরও বলেন, তাঁরা প্রার্থনা করছিলেন তুষারঝড়ে যেন মারা না যান। সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁদের সহায়তা করেন।

নাথিয়াগালির কর্মকর্তা তারিক উল্লাহ বলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ফুট পর্যন্ত তুষার জমে যায়। তিনি এএফপিকে বলেন, ঘটনাটি ছিল খুবই অপ্রত্যাশিত। প্রবল তুষারঝড়ে গাছ উপড়ে পড়েছে, চারদিকে তুষার জমেছে। মানুষ ছিল আতঙ্কিত।
পরদিন সকালে সামিনাকে উদ্ধার করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে একটি পর্যটন শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে তাঁকে রাখা হয়। জরুরি সংস্থাগুলো বলছে, তুষারঝড়ে যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন শিশু।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আটজন ঠান্ডায় জমে মারা গেছেন। যানবাহনগুলোতে উষ্ণ রাখতে যে ধোঁয়া ব্যবহার করা হয় তাতে অনেকের শ্বাসকষ্টও হয়। এই শ্বাসকষ্টও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার মারিতে সরু রাস্তায় যানবাহনগুলো আটকে পড়ে। ইসলামাবাদের পর্যটক দুয়া কাশিফ আলী এএফপিকে বলেন, মারিতে এ রকম তুষারঝড় নিয়ে সমাজ, সরকার, গুগল কিংবা কোনো সংবাদ সংস্থা কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি।

সামিনা ও তাঁর পরিবারের ১৩ সদস্য গাড়ি ছেড়ে এক মাইল দূরের অতিথি ভবনে যান। সেখানে তাঁরা আশ্রয় নেন। মারিতে থাকা ফারহাদ জাভেদ বলেন, শহরে পাঁচ হাজারের মতো গাড়ি রাখার জায়গা ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার এক লাখ পর্যটককে মারিতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে তাঁরা যানজটে আটকে পড়েন।

মারির রাস্তায় গাড়িগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। উদ্ধারকর্মীরা যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র হাসান খাওয়ার বলেন, দায়িত্বে কোনো অবহেলা হলে উচ্চপর্যায়ে তদন্ত চালাতে হবে। এরপর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে মারিতে এ ধরনের অবস্থা এর আগে হয়নি।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন