পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনিও একবার একটি হাতঘড়ি উপহার পেয়েছিলেন। তবে তিনি সেটা তোষাখানায় জমা দিয়ে দেন। তাঁর লুকানোর কিছু নেই বলেও শাহবাজ মন্তব্য করেন।

তোষাখানার বিস্তারিত জানাতে ইসলামবাদ হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শাহবাজ উপহার নিয়ে এসব কথা বলেন। পিটিশন দায়ের প্রসঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, অফিশিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট, ১৯২৩ অনুযায়ী তোষাখানার বিস্তারিত প্রকাশ করা যাবে না।

আইন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যদি অন্য কোনো রাষ্ট্র অথবা দেশ থেকে কোনো উপহার পেয়ে থাকেন, সেটা তোষাখানায় জমা দিতে হবে। যদি উপহারটি নিজের কাছে রাখতে চান, নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে ওই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এসব উপহার হয় তোষাখানায় থাকবে অথবা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ জাতীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ইমরান খানকে নতুন প্রধানমন্ত্রী কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। তাঁর দাবি, বিদেশি রাষ্ট্র থেকে পাওয়া একটি ঘড়ি সরকার থেকে কিনে নেন ইমরান খান। পরে তিনি ঘড়িটি বিক্রি করে দেন।

ফাওয়াদের প্রশ্ন, ‘সরকার থেকে কিনে নেওয়া ঘড়ি যদি প্রধানমন্ত্রী বিক্রি করে দেন, তাহলে অপরাধটা কী? ঘড়ির দাম ৫ কোটি নাকি ১০ কোটি রুপি, সেটা কোনো বিষয় নয়, যদি ঘড়িটি আমার হয় এবং সেটা বিক্রি করে দিই। এ নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকা উচিত নয়।’

এই পিটিআই নেতা বলেন, শাহবাজ শরিফ বিভ্রান্ত এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কীভাবে ইমরান খানকে দোষারোপ করবেন। এসব আষাঢ়ে গল্প বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় ইস্যুতে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে ১৮ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে একটি হার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তানের শীর্ষ তদন্ত সংস্থা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে উপহার হিসেবে দামি একটি হার পেয়েছিলেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী ওই হার দেশের কোষাগারে বা ভান্ডারে জমা না দিয়ে তিনি সেটা বিক্রি করে দেন।

জাতীয় পরিষদে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা ভোটে ৯ এপ্রিল ইমরান খানের সরকারের পতন হয়। এক দিন পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বিরোধীদলীয় নেতা ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দুর্নীতির মূলোৎপাটনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন ইমরান খান।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন