default-image

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন। তাঁকে ‘শিয়াল’ বলে অভিহিত করেছেন। ইমরান খান অভিযোগ করে বলেন, নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। দেশের রাজনীতিতে তাঁদের যুক্ত থাকার বিষয়টি টেনে এনে সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ে পরিবর্তন করার কথা বলছেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নামের দলটির সর্বোচ্চ নেতা নওয়াজ (৭০) ২০১৭ সালে ঘুষের অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। গত মাসে তিনি সরাসরি দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ও আইএসআই–প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল ফাইয়াজ হামিদের বিরুদ্ধে সাধারণ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন। ওই নির্বাচনে ইমরান খান জয়ী হন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৬ অক্টোবর পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (পিডিএম) ব্যানারে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো যৌথ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। ওই শোভাযাত্রায় ভার্চ্যুয়াল বক্তৃতায় নওয়াজ এসব অভিযোগ করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, শরিফ লন্ডনে বসে শিয়ালের মতো সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে কথা বলছেন। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মিনগোরাতে জনগণের সামনে দেওয়া এক ভাষণে ইমরান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ইমরানের আরও অভিযোগ, শরিফ অসুস্থতার বাহানায় দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি দেশের সম্পদ লুট করে ধনী হয়েছেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগেও শরিফের ওই দিনের বক্তব্যকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি বলেছিলেন, ভারতের ইশারায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করছেন শরিফ।

এদিকে ডন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফে দেশটির রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও ২০১৮ সালে নির্বাচনে তাঁকে জয়ী হতে সেনাবাহিনী সাহায্য করেছে এমন কথা অস্বীকার করেছেন।

পিএমএল-এনের প্রধানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জামিনের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ হাইকোর্ট শরিফকে লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার অনুমতি দেন। তবে তিনি আর ফেরেননি। তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, এখনো চিকিৎসা চলছে তাঁর।

ইমরান খান নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মরিয়ম রাজনীতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকার জন্য সরাসরি অভিযুক্ত করছেন। তিনি নারী হিসেবে সুবিধা নিতে চাচ্ছেন। পাকিস্তান নারীদের সম্মান করে। কিন্তু নওয়াজ ও তাঁর সন্তানেরা পাকিস্তানের মাটিতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেননি। তাঁরা পালিয়ে গেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0