২০১৬ সালের নভেম্বরে তিন বছরের জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন জেনারেল বাজওয়া। ২০১৯ সালে তাঁর দায়িত্বভার আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানো হয়। টানা ছয় বছর পর দায়িত্বভার ছাড়তে যাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে খাজা আসিফ বলেন, ‘আমি জেনারেল বাজওয়ার এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। নতুন সেনাপ্রধানের নিয়োগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মেনেই করা উচিত।’

প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মানলে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাইজ হামিদ পাকিস্তানের পরবর্তী সেনাপ্রধান হবেন। তাঁর নিয়োগে দেশটির বর্তমান জোট সরকারের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন খাজা আসিফ। তবে তিনি বলেন, পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনার প্রয়োজন নেই। বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখতে হবে।

পার্লামেন্টের অনাস্থা ভোটে হেরে ইমরান খানের বিদায় পাকিস্তানের বর্তমান জোট সরকারের সামনে বড় একটি সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। তিনি বলেন, ‘গত মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থা আমাদের সামনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ এনে দিয়েছে।’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান নিয়োগে নিজের প্রভাব ও রাজনৈতিক পছন্দ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে বর্তমান জোট সরকার এ পথে হাঁটবে না। নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ পাবেন নিয়ম মেনে, শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজের (পিএমএল–এন) নেতা খাজা আসিফ আরও বলেন, বিদায় নেওয়ার আগে–পরে ইমরান খান নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ধর্মকে ব্যবহার করেছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে প্রচলিত রাজনীনিতকদের বিকল্প হিসেবে শাসনক্ষমতায় এসেছিলেন। পরে তিনি সেনাবাহিনীর বিপক্ষে লজ্জাজনক অবস্থান নেন। নীতিগত নিরপেক্ষতার কথা তাঁর (ইমরানের) মুখে মানায় না। বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলেছে। বর্তমান জোট সরকার সেনাবাহিনীর এমন নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেন খাজা আসিফ। পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ইউক্রেনের মানুষের জন্য সরব না হয়ে কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের অসহায় মানুষদের কথাও বলুন।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন