বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সামরিক বাহিনীর সদ্য সমাপ্ত ৭৯তম ফরমেশন কমান্ডারস কনফারেন্সের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর ডিজি ইফতিখার বলেন, বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সেটা তিনি বলতে পারেন না। তবে তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।

আইএসপিআর ডিজি আরও বলেন, বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি বৈঠকের পর বিবৃতিও দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকে যে সিদ্ধান্তে হয়েছিল, তা বিবৃতিতেই আছে। তিনি বলেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। তারা যড়যন্ত্রকারীদের সফল হতে দেবে না।

সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) কূটনৈতিক তারবার্তা নিয়ে কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নে সেনা মুখপাত্র বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতদের তারবার্তা অতি গোপনীয় নথি। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিবেচনায় এ তারবার্তার কিছু অংশ আমরা আইএসআই অধিদপ্তরে গ্রহণ করেছি।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর ডিজির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্য ও বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করার প্রশংসা করেছে ইমরান খানকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলো।

এ নিয়ে টুইটে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, ‘আইএসপিআর ডিজির সংবাদ সম্মেলন গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার মতো। গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি সমর্থন কেবল সব প্রতিষ্ঠানই নয়, সব পাকিস্তানিরই দায়িত্ব।’

বিলাওয়াল ভুট্টো বলেন, ‘পাকিস্তানের সব সমস্যার সমাধান হলো গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং আরও বেশি গণতন্ত্র। যদি আমরা এ পথ অনুসরণ করি, বিশ্বের কোনো শক্তিই পাকিস্তানের অগ্রগতি থামিয়ে রাখতে পারবে না।’

নিজের সরকারকে রক্ষা করতে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়কে ব্যবহার করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) ভাইস প্রেসিডেন্ট মরিয়াম নওয়াজ। টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘নিজের সরকারকে বাঁচাতে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে খেলার মতো নিন্দনীয় প্রচেষ্টার জন্য এখনই আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সময়। জবাবদিহি করুন, বরাবরের মতো পালিয়ে যাবেন না। কারণ, এবার আর জাতি আপনাকে সে সুযোগ দেবে না।’

মরিয়াম নওয়াজ আরও বলেন, ‘ক্ষমতা ধরে রাখতে আপনি ভয়ংকর খেলা খেলেছেন। এনএসসির মতো ফোরামকে নিজের ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আপনি ভিত্তিহীন গল্প সাজিয়েছেন, যা কখনো দাবি করা হয়নি।’

জাতীয় পরিষদে বিরোধী জোটের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে ৯ এপ্রিল বিদায় নেন ইমরান খান। এরপর পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বিরোধীদলীয় নেতা ও পিএমএল-এন সভাপতি শাহবাজ শরিফ। তবে বিদেশি ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে অনাস্থা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোটাভুটির অধিবেশন বর্জন করেন ইমরানের দলের আইনপ্রণেতারা। উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দেয় দেশটির সামরিক বাহিনী।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন