মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েই দায়িত্বপালনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা রয়েছে বিলাওয়ালের। সৌদি আরব পাকিস্তানের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার ও নিয়মিত ত্রাণসহায়তা পাওয়ার উৎস।

বিলাওয়াল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির ছেলে এবং প্রয়াত আরেক প্রধানমন্ত্রী ও পিপিপির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতি।

জুলফিকার আলী ১৯৬০–এর দশকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছিলেন।

২০০৭ সালে আততায়ীর হাতে বেনজীর নিহত হওয়ার সময় বিলাওয়াল ১৯ বছরের তরুণ। তখন তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র। ওই বয়সেই তিনি দলে যোগ দেন।

পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট সরকারের প্রধান দুই শরিক পিএমএল-এন ও পিপিপি। ২১ এপ্রিল লন্ডনে অবস্থানরত পিএমএল-এনের সর্বোচ্চ নেতা নওয়াজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বয়স ২২ বা এরও কম। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে বিলাওয়ালের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে নিজ দেশের জাতীয় ভাষা উর্দু তেমন ভালো না বলতে পারায় প্রায়ই উপহাসের পাত্র হন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বিলাওয়ালের দক্ষতা নিয়ে মিশ্র মতামত দিয়েছেন। বিরোধী পাকিস্তান মুসিলম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে কত দিন সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে পারবেন, তা–ই এখন দেখার বিষয়।

বিশ্লেষক হাসান আসকারি রিজভী এএফপিকে বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি (বিলাওয়াল) হলেন অপরীক্ষীত ক্ষেপণাস্ত্র। বিলাওয়ালের মতো এত অল্প বয়সী এমপির জন্য এ পদ খুব তাড়াহুড়ো হয়ে গেল...বাইরের চ্যালেঞ্জসহ পাকিস্তান যে ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো সামাল দেওয়া তাঁর জন্য কঠিন হবে।’

অন্যদিকে আরেক বিশ্লেষক ফারজানা বারি আসকারির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘দুর্গ ধরে রাখার যথেষ্ঠ দক্ষতা বিলাওয়ালের আছে।’ তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের তুলনায় ‘বেশি প্রগতিশীল’ বলে উল্লেখ করেন ফারজানা।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন