বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অন্য সবার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে শাহবাজ শরিফ। বাবা দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে, তখন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ছেলে হামজা শাহবাজ। বাবা ও মিত্ররা সুপ্রিম কোর্টের লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন। ছেলের লড়াই লাহোর হাইকোর্টে। আজকের অনাস্থা ভোটের পাশাপাশি বাবা-ছেলের চমকের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

default-image

বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া, পাঞ্জাব ও সিন্ধ—পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ। এর মধ্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো পাঞ্জাব। সেই প্রদেশের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ’ যেন হয়, সে জন্য গতকাল শুক্রবার লাহোর হাইকোর্টে সহায়তা প্রার্থনা করেন হামজা শাহবাজ। হামজার আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্য সচিব, পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির (পিএ) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং প্রাদেশিক পুলিশ প্রধানকে।

লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমির ভাট্টি সেই পিটিশন গ্রহণ করেছেন। একই আদালতে আরেকটি আবেদন করেন সেই প্রদেশের ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মাজারি।

বিরোধী দলে যোগ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি তাঁর ক্ষমতা থেকে কেড়ে নেন স্পিকার চৌধুরী পারভেজ এলাহী। এ আবেদনও গ্রহণ করেছেন আদালত। শুনানিতে হামজার আইনজীবী আজম নাজির তারার বলেন, ৬ এপ্রিল প্রাদেশিক আইনপ্রণেতাদের অ্যাসেম্বলি ভবনে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য অধিবেশন ৬ এপ্রিল ভোট হওয়ার কথা ছিল। তা পিছিয়ে ১৬ এপ্রিল নেওয়া হয়। তিনি জানান, পাঞ্জাবের সরকারের আইনজীবী ৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, পরের দিন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু হয়নি। এরপর প্রধান বিচারপতি পাঞ্জাবের আইনজীবীকে তলব করেন এবং আবেদন গ্রহণ করেন। সংক্ষিপ্ত বিরতির পর শুনানি আবার শুরু হলে বিচারককে জানানো হয়, পাঞ্জাবের আইনজীবী ইসলামাবাদে আছেন। তিনি আদালতে হাজির হতে পারবেন না। তখন বিচারপতি আমির ১১ এপ্রিলের জন্য সব বিবাদীর প্রতি নোটিশ জারি করার সিদ্ধান্ত নেন।

পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্য সচিব, পাঞ্জাবের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং প্রাদেশিক পুলিশ প্রধানকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত। প্রাদেশিক সচিবের কাছ থেকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের একটি রেকর্ডও চান বিচারক। তারপর ১১ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদার গত মাসে পদত্যাগ করেন। এ কারণে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ভোট করতে হবে। পিএমএল-কিউ-এর চৌধুরী পারভেজ এলাহী এবং পিটিআই থেকে বেরিয়ে আসা আইনপ্রণেতাদের (জাহাঙ্গীর তারিন ও আলিম খান গ্রুপ) সমর্থন পাওয়ায় হামজা শাহবাজ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। এর মধ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজসহ অন্য আইনপ্রণেতাদের নিয়ে প্রতীকী ভোটে শাহবাজই নির্বাচিত হয়েছেন।

default-image

মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার জন্য ৩৭১ সদস্যের মধ্য ১৮৬ ভোট পেতে হয়। পাঞ্জাবে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহেরিক–ই–ইনসাফের (পিটিআই) ১৮৩ জন, পিএমএল-কিউয়ের ১০, পিএমএল-এনের ১৬৫, পিপিপির ৭, স্বতন্ত্র ৫ ও রাহ-হকের ১ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন।

নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করছে আসলে জাহাঙ্গীর তারিন পক্ষ। পিটিআই থেকে বেরিয়ে যাওয়া এ পক্ষের হাতে আছে অন্তত ১৬ জন আইনপ্রণেতার ভোট।

অধিবেশন যে দিনই আহ্বান করা হোক, সমর্থন বেশি হামজারই। আর আজ যদি নতুন কিছু না ঘটে, তবে ইমরানের পরই নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজই দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে। আর আসছে সপ্তাহেই বাবা ও ছেলে পাকিস্তানে রাজনীতিতে বড় দুটি পদে বসতে যাচ্ছেন। তথ্যসূত্র: ডন ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন