default-image

যুক্তরাজ্যের নাগরিক আহমদ ওমর সাইদ শেখকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে সরকারি রেস্টহাউসে পাঠানোর আদেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের এ–সংক্রান্ত আদেশ তাদের ‘শঙ্কিত’ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য। মার্কিন সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ওমর সাইদকে রেস্টহাউসে নেওয়ার জন্য গতকাল মঙ্গলবার আদেশ দেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ প্যানেল।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আজ বুধবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘ওমর ও তাঁর সহযোগীদের কারাগার থেকে সরানোর রায়ে আমরা শঙ্কিত। একই সঙ্গে এ মামলার যে অগ্রগতি, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, আদালতের এ সিদ্ধান্ত পাকিস্তানসহ সব জায়গায় সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের জন্য মুখের ওপর অপমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, পাকিস্তান সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করবে এবং শেখ ও তাঁর সহযোগীরা যাতে মুক্তি না পায়, তা নিশ্চিত করবে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে এনে শেখের বিচার করতেও প্রস্তুত।’

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ওমরকে রেস্টহাউসে স্থানান্তর করতে হবে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিবহন সুবিধাসহ সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সেখানে মুঠোফোন বা ইন্টারনেটের ব্যবস্থা রাখা যাবে না। অর্থাৎ পরিপূর্ণ মুক্তির আগে ওমর শেখ বিশ্রামাগারের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। ওমর শেখ বর্তমানে করাচি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে করাচি শহরেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোনো বিশ্রামাগারে নিতে হবে।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি ওমর শেখের মুক্তির আদেশ বহাল রেখেছিলেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চের দুই বিচারক। পরে ওই আদেশের বিপক্ষে আপিল করে সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার। ওমর শেখের ওই মুক্তির আদেশে তখনো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

২০০২ সালে করাচিতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোপ্রধান পার্লকে (৩৮) অপহরণ শেষে করাচিতে শিরশ্ছেদ করা হয়। জঙ্গিদের নিয়ে তিনি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছিলেন। এক মাস পর পার্লের শিরশ্ছেদের একটি ভিডিও মার্কিন কনস্যুলেটে পাঠানো হয়েছিল। ২০০২ সালেই আহমেদ ওমর সাইদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ২০১১ সালে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ল প্রজেক্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিক পার্ল হত্যায় ভুল ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মূল হোতা ৯/১১ ঘটনায় অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ, যিনি ২০০৩ সালে পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হয়ে গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী হয়ে বিচারের অপেক্ষায় আছেন। এরপর গত বছরের ২ এপ্রিল পাকিস্তানের একটি আদালত সাঈদ শেখের মৃত্যুর দণ্ডাদেশ প্রত্যাহার করে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। সাঈদ ২০০২ সালে বন্দী হওয়ায় ওই কারাদণ্ডের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ওমর শেখের সঙ্গে আরও তিনজন এই মামলায় বন্দী রয়েছেন। অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকলে তাঁরাও ওমরের সঙ্গে মুক্তির অপেক্ষায় আছেন।

বিজ্ঞাপন
পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন